পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) পরাজয়ের পর দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। তার দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা পরাজিত হইনি। আমি পদত্যাগ করব না। রাজভবনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
প্রথা অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে রাজভবনে যান। কিন্তু মমতার এই অবস্থান নতুন করে সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
মমতা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। এছাড়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান, টিএমসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ দলীয় আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
সংবিধান কী বলছে?
ভারতের সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী গভর্নর কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা তার পরামর্শে শপথ নেন। তবে এই পদে টিকে থাকার মূল শর্ত হলো বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন।
এক্ষেত্রে যদি কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান, গভর্নর তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য আস্থা ভোটে যেতে বলতে পারেন। আস্থা ভোটে ব্যর্থ হলে মুখ্যমন্ত্রীকে পদ ছাড়তেই হবে।
যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারে, তাহলে শেষ উপায় হিসেবে রাষ্ট্রপতি শাসন (অনুচ্ছেদ ৩৫৬) জারি হতে পারে।
বিধানসভার মেয়াদ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ পাঁচ বছর। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৮ মে ২০২১ থেকে শুরু হয়ে ৭ মে ২০২৬-এ শেষ হচ্ছে। এরপর নতুন বিধানসভা গঠন ও সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নির্বাচনের ফলাফল
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে ২০৭টি আসন লাভ করেছে। অন্যদিকে টিএমসি পেয়েছে ৮০টি আসন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ভবানীপুর আসনে পরাজিত হয়েছেন।
এছাড়া কংগ্রেস পেয়েছে ২টি আসন, হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি, এবং সিপিআই(এম) ও অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট একটি করে আসন জিতেছে।
শেষ কথা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিলেও সাংবিধানিক বাস্তবতা তাকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তিনি রাজনৈতিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নেন এবং পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



