মার্কিন সাংবাদিক ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ফরিদ জাকারিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘জওহরলাল নেহরুর পর ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এনডিটিভির প্রধান সম্পাদক রাহুল কানওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাধারণত দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নেতারা এক দশক পার করার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হন। কিন্তু মোদির ক্ষেত্রে তা দেখা যাচ্ছে না।
জাকারিয়ার মতে, এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—একটি দুর্বল বিরোধী দল এবং অন্যটি মোদির ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা। তিনি বলেন, মোদিকে ক্লান্ত বা উদ্যমহীন দেখাচ্ছে না। ভারতের দীর্ঘ নেতৃত্বের ইতিহাসে মোদির অবস্থান আলাদা। নেহরুর পর তিনিই দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভারত প্রায় ৬.৫ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, যা বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দ্রুততম। দেশে এক ধরনের সন্তুষ্টির অনুভূতি রয়েছে। বিজেপি একটি সুসংগঠিত দল এবং নির্বাচনে অত্যন্ত পরিশ্রমী। মোদি কৌশলে ‘বহিরাগত’ ও ‘ভিতরের মানুষ’—এই দ্বৈত ভূমিকা সফলভাবে পালন করতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য, জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৬৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভারত শাসন করেন। তার নেতৃত্বে দেশের প্রাথমিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠে। জাকারিয়া বলেন, তিনি যে ভারতে বড় হয়েছেন, সেটি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি সমাজতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী। বর্তমানে ভারত অনেক বেশি ধনী হলেও কিছু সূচকে অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভারতে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক। তিনি সিএনএনে ‘ফরিদ জাকারিয়া জিপিএস’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন এবং ওয়াশিংটন পোস্ট-এ সাপ্তাহিক কলাম লেখেন।
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে জাকারিয়া বলেন, সঠিক কৌশল নিলে একটি সমঝোতা সম্ভব। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি যদি বলেন—‘আপনি রাজনীতিক, আমিও রাজনীতিক। কৃষি খাতে আমি কিছু ছাড় দিতে পারছি না, কারণ সামনে নির্বাচন রয়েছে। তবে এর বদলে আমি অন্য কিছু করতে পারি’—তাহলে চুক্তির পথ খুলতে পারে। ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ, কিছু মার্কিন পণ্য কেনা এবং প্রতিরক্ষা সামগ্রীতে। এখানে একটি বাস্তব সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়। আলোচনায় ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব উঠে আসে, এমন এক সময়ে যখন দুই দেশ দীর্ঘদিন আলোচিত একটি বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।



