চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই (জানুয়ারি–জুন) ১,৫৫৫ জন নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। এসব ঘটনায় ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, গৃহকর্মী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট নির্যাতনের ঘটনা ছিল ২,৯৩৭টি, আর ২০২৪ সালে ২,৫২৫টি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই এই সংখ্যা ১,৫৫৫-তে পৌঁছেছে।
এই তথ্য প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন: ২০২৪ সমীক্ষা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে। সমীক্ষাটি ১৪টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রণীত।
নির্যাতনের ধরন ও পরিসংখ্যান:
- ধর্ষণ: ৩৬৪ জন (২২০ জন কন্যা, ১৪৪ জন নারী)
- দলবদ্ধ ধর্ষণ: ১৪৮ জন (৪৯ জন কন্যা, ৯৯ জন নারী)
- ধর্ষণের পর হত্যা: ২১১ জন (১৩৪ জন কন্যা, ৭৭ জন নারী)
- যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণ: ২২৪ জন (১২৫ জন কন্যা)
- বাল্যবিবাহ: ২০ জন কন্যা
- যৌতুকের জন্য নির্যাতন: ৬৮ জন (৬৬ জন নারী, ২ জন কন্যা)
- গৃহকর্মী নির্যাতন: ২৪ জন (১৬ জন কন্যা, ৮ জন নারী)
- সাইবার অপরাধ: ২৯ জন (২৬ জন কন্যা, ৩ জন নারী)
অভিযুক্তদের বয়স ও পরিচয়:
- ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের ২৮% এর বয়স ১১-৩০ বছরের মধ্যে; এর মধ্যে ২১–২৫ বছর বয়সীদের সংখ্যা বেশি।
- সাইবার অপরাধের ২৯টি ঘটনার মধ্যে ১৪টিতে অভিযুক্তদের বয়স ১৬-৩০ বছর।
- দলবদ্ধ ধর্ষণের ৪২% ঘটনায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর অপরিচিত।
- উত্ত্যক্তকারীদের মধ্যে ২৪% শিক্ষক, ৩১% চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বখাটে।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ:
- ১৮ বছরের নিচের কন্যাশিশুরা ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানির প্রধান ভুক্তভোগী।
- অপরাধের সাথে জড়িতদের বড় অংশও কম বয়সী।
- উপজেলা পর্যায়ের ঘটনা গণমাধ্যমে বেশি প্রচারিত হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও সীমাবদ্ধতা:
- ধর্ষণের ৬২% ঘটনায় মামলা হয়েছে, যা মামলা দায়েরের হার বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
- নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ কিছুটা বেড়েছে।
- তবে গণমাধ্যমে সব ধরনের নির্যাতনের খবর আসে না, বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা ও মামলার অগ্রগতির তথ্য অনুপস্থিত থাকে।
মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, “নারী নির্যাতনের মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালক শাহজাদী শামীমা আফজালী (সঞ্চালক), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, রীনা আহমেদ, রেখা সাহা, দীপ্তি শিকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



