tanaka

নির্বাচনের আগে চাপে ফ্রান্সের মধ্যপন্থিরা, বাড়ছে বাম ও ডানপন্থিদের প্রভাব

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও তা...
প্রচ্ছদজাতীয়এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেল: সিদ্ধান্ত এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেল: সিদ্ধান্ত এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে

বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাওয়ার বিষয়টি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করণীয় প্রায় শেষ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে অর্থ বিভাগের পৃথক গেজেট জারির অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। এ বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।

তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের হিসাব হাতে-কলমে করতে হওয়ায় তাঁদের নতুন কাঠামোর বেতন পেতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এ সময় আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের কার্যক্রম ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এমপিওভুক্ত জনবলও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে বিষয়টি এখন অর্থ বিভাগের হাতে। অর্থ বিভাগ পৃথকভাবে গেজেট জারি করলে শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।

নতুন পে স্কেলের বকেয়া হিসাব করবেন যেভাবে

নতুন পে স্কেল কার্যকরের পর ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সম্ভাব্য বকেয়া কত হতে পারে, তা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। এ হিসাব সহজ করতে একটি অনানুষ্ঠানিক এইচটিএমএল ক্যালকুলেটর তৈরি করা হয়েছে। এতে গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য দিয়ে নতুন মূল বেতন, বাড়িভাড়া ও বিশেষ সুবিধার সমন্বয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের বকেয়ার একটি সম্ভাব্য হিসাব পাওয়া যায়।

তবে ক্যালকুলেটরে ব্যবহৃত সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এস.আর.ও. নং ৩৪৭ আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বাড়িভাড়া ভাতার হারও সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

এটি কোনো সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা নয়; কেবল প্রাথমিক হিসাবের সহায়ক। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও আইবাস++ ব্যবস্থার তথ্যই অনুসরণ করতে হবে।

ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম

১. ব্যক্তিগত তথ্য: নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য হিসাবের বিবরণীতে থাকবে। তবে ঘরগুলো ফাঁকা রেখেও হিসাব করা যাবে।

২. গ্রেড নির্বাচন: ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে।

৩. ৩০ জুনের মূল বেতন: সংশ্লিষ্ট তারিখের পে স্লিপ অনুযায়ী মূল বেতন দিতে হবে। তালিকায় বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন ব্যবহার করা যাবে।

৪. ১ জুলাইয়ের মূল বেতন: বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো স্কেলে জুলাই মাসে যে মূল বেতন পাওয়ার কথা, সেটি উল্লেখ করতে হবে।

৫. কর্মস্থল ও বাড়িভাড়া: কর্মস্থল নির্বাচন করলে সংশ্লিষ্ট বাড়িভাড়ার হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে পে স্লিপে উল্লেখ করা হারের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজনে তা সংশোধন করতে হবে।

৬. বকেয়ার সময়কাল: প্রাথমিকভাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস নির্বাচন করা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত হিসাব করা যাবে।

৭. বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি: ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির টিকচিহ্ন তুলে দিতে হবে।

হিসাবের বিবরণীতে যা থাকবে

পে স্লিপে উল্লেখ করা বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাব থেকে আলাদা হলে ঐচ্ছিক ঘরে প্রকৃত অঙ্ক দেওয়া যাবে। আইবাস++ বা গেজেট থেকে নতুন মূল বেতন জানা থাকলে সেটিও ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর হিসাবের বিবরণীতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ, প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন এবং সম্ভাব্য বকেয়ার হিসাব দেখা যাবে। ক্যালকুলেটরে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন হিসেবে দেখানো হবে।

মাসিক হিসাবের মধ্যে থাকবে প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য, বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করা ১০ বা ১৫ শতাংশের অঙ্কের সমন্বয়।

তবে ক্যালকুলেটরের ফলাফলকে চূড়ান্ত বেতন বা বকেয়ার হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। নির্ভুল হিসাবের জন্য মূল গেজেট, সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ এবং সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল কার্যকরের ক্ষেত্রে এখন অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্ত ও পৃথক গেজেটের বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গেজেট জারি এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশের পরই তাঁদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাওয়ার সময়সীমা আরও স্পষ্ট হবে।