চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আকস্মিকভাবে তিব্বত সফরে গেছেন। চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে তিব্বত ঘোষণার ৬০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৫৯ সালে তিব্বত দখলের পর ১৯৬৫ সালে অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসিত ঘোষণা করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)। এ উপলক্ষে লাসায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের সামনে ভাষণ দেন শি। তিনি বলেন, “তিব্বতকে শাসন, স্থিতিশীল ও উন্নত করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি, জাতিগত ঐক্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানে কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাডাররা পতাকা উত্তোলন করে, সেনারা রাইফেল হাতে মিছিল করে এবং স্থানীয়রা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করে। তবে শি একবারও দলাই লামার নাম উল্লেখ করেননি। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে নির্বাসিত দলাই লামা তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। গত জুনে তিনি ঘোষণা দেন, তাঁর উত্তরসূরি মনোনয়নের অধিকার বেইজিংয়ের নয়, বরং তাঁর দফতরের হাতে থাকবে। তবে চীন দাবি করে, এ অধিকার তাদেরই।
তিব্বতে দ্বিতীয়বার সফরে গিয়ে শি স্থানীয় প্রশাসনের প্রশংসা করেন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে তাদের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি তিব্বতি বৌদ্ধদের মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।
সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টি তিব্বতে নতুন শিক্ষা আইন চালু করেছে। এর আওতায় শিশুদের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত স্কুলে মান্দারিন শেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও বৌদ্ধধর্মকে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



