আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসীর জামিনের দায় বিচারপতিদের—এমন মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের অপসারণের দায়িত্ব প্রধান বিচারপতির ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তারা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেও এখন কেন এ বিষয়ে নীরব?
হাইকোর্টে আসামিদের জামিন প্রদানের জন্য আইন উপদেষ্টাকে দোষারোপ করা হচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল অতীতের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় বাতিল হওয়ার পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কি আইনমন্ত্রীকে দোষ দিয়েছিলেন? কিংবা বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য কি আইনমন্ত্রীকে দায়ী করা হয়েছিল? তাহলে এখন কেন এমন বিষয়ের জন্য আইন উপদেষ্টাকে দোষ দেওয়া হচ্ছে, যেগুলোর সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই?
তিনি জানান, তাকে মূলত দুইটি কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। প্রথমত, সমালোচনার মাধ্যমে ভিউ বাড়ে, ব্যবসা ও মনিটাইজেশন হয়—আসিফ নজরুলকে গালি দিলে কিছু অর্থ আসে। দ্বিতীয়ত, এর পেছনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তাকে দুর্বল করতে পারলে সেই এজেন্ডা বাস্তবায়ন সহজ হয়।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত তিন-চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, অন্যায় আক্রমণ, অব্যাহত সমালোচনা, অশ্লীল গালাগালি, প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং অসহনীয় জীবন—এমন পরিস্থিতিতে কে আর কাজ করতে চায়? তবে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘এটা একটি দল। একজন পদত্যাগ করলে অন্যদের মনোবল ভেঙে পড়বে এবং সরকারের কাজ ব্যাহত হবে। তাই শুধু কাজ করে যেতে হবে।’
এই কারণেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, যতদিন তিনি বাংলাদেশে থাকবেন, সব প্রশ্নের জবাব দেবেন।



