tanaka

৫২ বছর বয়সে ফের মা হওয়ার সুখবর দিলেন অস্কারজয়ী হিলারি সোয়াঙ্ক

৫২ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী হিলারি সোয়াঙ্ক। স্বামী ফিলিপ স্নাইডার ও যমজ সন্তানদের নিয়ে নতুন অতিথির আগমন উদ্‌যাপন করেছেন দুইবারের অস্কারজয়ী এই তারকা।
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আপাতত স্থগিত, ট্রাম্পের ঘোষণা

ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আপাতত স্থগিত, ট্রাম্পের ঘোষণা

ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করা বিতর্কিত আইনের প্রয়োগ আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘জাতীয় স্বার্থের’ কথা উল্লেখ করে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাশিয়াসংশ্লিষ্ট ওই আইনের আওতায় বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ থেকে সাময়িক ছাড় দিয়েছেন তিনি। এতে ভারত ও চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বড় ক্রেতা দেশগুলো আপাতত স্বস্তি পেয়েছে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের একটি বিলে স্বাক্ষর করেন। ওই আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল কেনা শীর্ষ পাঁচটি দেশ—ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আগামী ১৮ অক্টোবর ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে শুল্ক আরোপের বিষয়টি সাময়িকভাবে মওকুফ করেন ট্রাম্প। ফলে আপাতত ভারত ও চীনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর এই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। তবে এ সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবারও শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মার্কিন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এর আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত। দেশটি জানিয়েছিল, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভারত যুক্তি দিয়েছিল, এ ধরনের শুল্ক আরোপ শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের ওপর সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ শুল্কের চাপ আপাতত এড়ানো গেল। একই সুবিধা পেয়েছে চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি তেলের অন্যান্য বড় ক্রেতা দেশ।

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিও করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। চুক্তির আওতায় প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩ লাখ টন ডিজেল পাওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এ ধরনের চুক্তির সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি এটিকে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন জেলেনস্কি। এ কারণে ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বা নেতা বেছে নেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভারত ও চীনের ওপর শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত কত দিন বহাল থাকবে, তা এখনো অনিশ্চিত।