tanaka

৫২ বছর বয়সে ফের মা হওয়ার সুখবর দিলেন অস্কারজয়ী হিলারি সোয়াঙ্ক

৫২ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী হিলারি সোয়াঙ্ক। স্বামী ফিলিপ স্নাইডার ও যমজ সন্তানদের নিয়ে নতুন অতিথির আগমন উদ্‌যাপন করেছেন দুইবারের অস্কারজয়ী এই তারকা।
প্রচ্ছদজাতীয়বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় লাহোর শীর্ষে, ঢাকার অবস্থান ১১তম

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় লাহোর শীর্ষে, ঢাকার অবস্থান ১১তম

ধুলাবালি, যানবাহনের ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বস্তুকণার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিভিন্ন উন্নয়নকাজের প্রভাবেও দূষিত হচ্ছে নগরীর বাতাস। এর ফলে জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব।

বায়ুদূষণের তালিকায় বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর ২০৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, ঢাকার বাতাসের মানও উদ্বেগজনক। গত কয়েক দিন ধরে অস্বাস্থ্যকর বাতাসের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আজ ১৬০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১১তম অবস্থানে রয়েছে। এই স্কোর অনুযায়ী, ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে যারা

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ২০১ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর সিটি।

এ ছাড়া ১৮৯ স্কোর নিয়ে ভারতের মুম্বাই তৃতীয়, ১৮৫ স্কোর নিয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর চতুর্থ এবং ১৭৯ স্কোর নিয়ে ইতালির মিলান পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

একিউআই স্কোরের অর্থ কী?

বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) মাধ্যমে বাতাসে দূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। সূচক অনুযায়ী, স্কোর যত বেশি হয়, বায়ুদূষণের মাত্রাও তত বেশি বলে বিবেচিত হয়।

একিউআই স্কোরের শ্রেণিবিন্যাস হলো—

  • ০–৫০: ভালো
  • ৫১–১০০: মাঝারি বা সহনীয়
  • ১০১–১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
  • ১৫১–২০০: অস্বাস্থ্যকর
  • ২০১–৩০০: খুবই অস্বাস্থ্যকর
  • ৩০১-এর বেশি: বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়

এই মানদণ্ড অনুযায়ী, ঢাকার ১৬০ স্কোরের বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, লাহোরের ২০৪ স্কোরের বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ

বাংলাদেশে বায়ুমান নির্ধারণে বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) ও ওজোন (ও৩)—এই পাঁচ ধরনের দূষক বিবেচনা করা হয়।

২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলাবালির কথা উল্লেখ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দূষণকারী উপাদান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নির্মাণকাজে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের নির্গমন কমানো বায়ুর মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বায়ুদূষণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সংস্থাটির হিসাবে, বায়ুদূষণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বায়ুদূষণের কারণে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। তাই দূষিত বাতাসের পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান না করা এবং বাইরে থাকলে উপযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।