ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়েছে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাভারিয়ান ক্লাবটিতে খেলবেন এই তারকা স্ট্রাইকার। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালে ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পার ছেড়ে ৮ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে বায়ার্নে যোগ দিয়েছিলেন কেইন। সে সময় চার বছরের চুক্তিতে ক্লাবটিতে আসেন তিনি। ফলে তার আগের চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
চুক্তি নবায়নের পর বায়ার্নের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কেইন। ক্লাবটির অংশ হতে পারাকে গর্বের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বায়ার্নের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। এই ক্লাব, সমর্থক এবং আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাকে ভালোবাসি। আমাদের দল অসাধারণ, কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিও দারুণ। এখানে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
বায়ার্নের জার্সিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুর্দান্ত গোল-ফর্মে রয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এখন পর্যন্ত দলটির হয়ে ১৫৬ ম্যাচে ১৬১টি গোল করেছেন তিনি। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে তার গোল ছিল ৬১টি। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও সাত গোল।
এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ৬০-এর বেশি অবদান রাখার কীর্তি গড়েন কেইন।
তার নেতৃত্ব ও গোলের ওপর ভর করে গত মৌসুমে জার্মান সুপার কাপ, বুন্দেসলিগা এবং ডিএফবি পোকাল জেতে বায়ার্ন। ব্যক্তিগত সাফল্যেও পিছিয়ে ছিলেন না তিনি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে জেতেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। এরপর ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে যুক্ত করেন আরও একটি বড় স্বীকৃতি।
নতুন চুক্তির ফলে বায়ার্নের আক্রমণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়কে আরও কয়েক বছর ধরে রাখতে পারছে ক্লাবটি। একই সঙ্গে কেইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা অনিশ্চয়তারও অবসান হলো। এর আগে বার্সেলোনা ও সৌদি আরবের কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে তার সম্ভাব্য যোগ দেওয়ার আলোচনা সামনে এসেছিল।
চলতি মৌসুমেও গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। এখন পর্যন্ত ১৪ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। এদিকে বুন্দেসলিগার পয়েন্ট তালিকায় বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বায়ার্ন মিউনিখ।



