মাঠে সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষ দলের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেলের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর মানসিক আঘাত পেয়েছেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনির গোলরক্ষক হেসুস ওউয়োনো। শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত জাতীয় দল থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ফলে চলতি মাসে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে তাঁকে পাচ্ছে না দল।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ফুটবল ফেডারেশন।
গত সোমবার স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের আন্দোরা ও তেনেরিফের ম্যাচে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি। বল দখলের লড়াইয়ে আন্দোরার গোলরক্ষক ওউয়োনোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন তেনেরিফের ফরোয়ার্ড দে মিগেল। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা যান তিনি।
ইকুয়েটোরিয়াল গিনির জাতীয় দলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন ওউয়োনো। কৈশোর থেকেই জাতীয় দলের গোলপোস্ট সামলানো এই গোলরক্ষক গত তিনটি আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সেও ছিলেন দলের প্রথম পছন্দ। ২০২৭ সালের আসরের বাছাইপর্বের প্রথম দুই ম্যাচেও একাদশে ছিলেন তিনি।
তবে দে মিগেলের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ওউয়োনো। এই পরিস্থিতিতে ফুটবল থেকে সাময়িক দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফলে আগামী ১২ নভেম্বর নিজেদের মাঠে এবং ১৬ নভেম্বর হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই গোলরক্ষক।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানান ওউয়োনো। তিনি লেখেন, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন তিনি। ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মেনে নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
নিজের অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলেও যথাযথ সম্মান বজায় রেখে সেগুলোর জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ওউয়োনো। তবে এই মুহূর্তে তাঁর সব চিন্তা জুড়ে রয়েছেন মিগেল এবং তাঁকে হারানোর অসহনীয় বেদনা। বার্তার শেষাংশে প্রয়াত ফুটবলারের আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি।
এদিকে মিগেলের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও হয়রানির মুখে পড়েছেন ওউয়োনো। তাঁর পোস্টে আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পাশাপাশি কেউ কেউ তাঁকে ‘খুনি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেন তিনি।
তবে এই কঠিন সময়ে গোলরক্ষকের পাশে দাঁড়িয়েছে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ফুটবল ফেডারেশন। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ওউয়োনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, তরুণ এই গোলরক্ষক বর্তমানে গভীর শোক ও তীব্র মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।



