২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা থেকে অতিরিক্ত ২০ হাজার হজযাত্রীর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। সংগঠনটির দাবি, নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তাদের হজ পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এ দাবি জানান। এ সময় ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি, অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দ, সৌদি আরবে আটকে থাকা মেডিকেল ফির অর্থ ফেরত এবং হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা জমা দেওয়ার সময়সীমাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৫ মে ২০২৭ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর সৌদি সরকার বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ কোটা নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশের মূল হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গত কয়েক বছর হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় সৌদি সরকার বাংলাদেশের জন্য কোটা কমিয়ে দেয়।
হাব নেতারা জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে এবার হজে যাওয়ার আগ্রহ ও নিবন্ধন বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ করা কোটা পূর্ণ হলেও আরও ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেক পরিবারের একাধিক সদস্য নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও কোটার সীমাবদ্ধতায় অন্য সদস্যরা অপেক্ষায় রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অন্তত ২০ হাজার অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দের প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠনটি।
এ জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপিকে সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে হাব। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে ধর্মমন্ত্রীর সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিলে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত কোটা আদায় সম্ভব হতে পারে। মন্ত্রী এ বিষয়ে আশ্বাস দিলেও অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবে আটকে থাকা মেডিকেল ফির অর্থ ফেরতের বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়। হাব জানায়, চলতি বছর কোনো পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই সৌদি সরকার বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে রাখে। বিষয়টি জানার পর অর্থ ফেরত পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।
পরবর্তী সময়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় গতকাল আটকে রাখা ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল ফেরত পাওয়া গেছে বলে জানায় হাব। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।
এ ছাড়া সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মক্কায় কাউন্সেলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম, কনসাল (হজ) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং হজ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়। হজযাত্রীদের সেবায় সহযোগিতার জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহসহ সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হাব।
এদিকে ২০২৭ সালের হজে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত যাত্রীদের প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ আগামী ৭ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন না করলে প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে সংশ্লিষ্টদের আগামী বছরের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা সব হজযাত্রীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের বাকি টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে হাব।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে হাব নেতারা হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতায় দেশের হজ ব্যবস্থাপনা ক্রমেই সুশৃঙ্খল হচ্ছে। ২০২৬ সালের হজ অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। আগামী বছরও হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।



