tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশপক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর মেরুদণ্ডে টিস্যু প্রতিস্থাপন, ১২ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার মস্কোয়

পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর মেরুদণ্ডে টিস্যু প্রতিস্থাপন, ১২ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার মস্কোয়

চীন ও রাশিয়ার চিকিৎসকদের একটি দল পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত মেরুদণ্ডের অংশে অন্য ব্যক্তির টিস্যু প্রতিস্থাপন করেছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। রাশিয়ার মস্কোয় প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রোপচারটি। চিকিৎসকদের দাবি, কোষের টিস্যু জোড়া লাগানোর বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতিস্থাপনের ঘটনা বিশ্বে প্রথম।

চীনা শল্যচিকিৎসক রেন শিয়াওপিংয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মস্কোর স্ক্লিফোসোভস্কি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিনে অস্ত্রোপচারটি করা হয়। ওই রোগী তিন বছর আগে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর মেরুদণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নিউ সায়েন্টিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরিয়ে মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘোষিত এক ব্যক্তির মেরুদণ্ডের টিস্যুর একটি অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়। এ কাজে মাইক্রোসার্জারির পাশাপাশি পলিইথিলিন গ্লাইকোল নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন চিকিৎসকেরা। কোষের ঝিল্লি জোড়া লাগাতে সহায়তা করার জন্য পদার্থটি ব্যবহার করা হয়।

রেন শিয়াওপিং জানান, চীনের গুয়াংসি ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের দ্বিতীয় অধিভুক্ত হাসপাতালের চিকিৎসক দল এবং রাশিয়ার চিকিৎসকেরা যৌথভাবে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেন। গত ১৪ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পরিচালিত এ প্রক্রিয়ায় মোট ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান তিনি।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনও গত ১৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শুরুতে রোগী সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা ছিল। তবে অস্ত্রোপচারের পর তাঁর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং তিনি ভালো অনুভব করছেন।

এর আগে মানবমস্তক প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন রেন শিয়াওপিং। এবার তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের মেরুদণ্ডের টিস্যু প্রতিস্থাপনের এই উদ্যোগ চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে অস্ত্রোপচারটির প্রকৃত কার্যকারিতা, দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক তথ্য ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।

সূত্র: এনডিটিভি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও নিউ সায়েন্টিস্ট।