tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়৫ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘অ্যালার্মিং’, বাড়ছে আক্রান্তের আশঙ্কা

৫ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘অ্যালার্মিং’, বাড়ছে আক্রান্তের আশঙ্কা

দেশের পাঁচ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘অ্যালার্মিং’ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্তমানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান মীর শাহে আলম।

তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন ১৩০ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ২১৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাঁচ বিভাগে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ ছাড়া দেশের বাকি পাঁচ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘অ্যালার্মিং’ পর্যায়ে রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের ঠিকানা বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগ যৌথভাবে এসব এলাকার ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে।

তিনি বলেন, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সঙ্গে এসব এলাকায় এডিস মশার লার্ভা উৎপাদনের স্থানও বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ তিন মাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

কর্মসূচিতে রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউট, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবক দল, বিডি ক্লিনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।

একই সময়ে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪ জেলা প্রশাসন এবং ৫০৩ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হবে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি প্রতি শনিবার সারাদেশে জাতীয়ভাবে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশ, আঙিনা ও ছাদসহ যেসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে বা পানি আটকে থাকে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এসব জায়গায়ই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা শয্যা

ঝুঁকিপূর্ণ জেলা ও উপজেলাগুলোতে চিকিৎসাব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যালার্মিং জেলা ও উপজেলাগুলোর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পাঁচটি করে শয্যা আলাদাভাবে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। আগামী শনিবার থেকে হাসপাতালগুলোতে মশারির ব্যবস্থাও করা হবে। এর মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীকে মশা কামড় দিয়ে পরে অন্য ব্যক্তিকে কামড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো হবে।

সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—ডেঙ্গুর এই তিন ঝুঁকিপূর্ণ মাসে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।