tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল গাজীপুর, দেড় শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি

শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল গাজীপুর, দেড় শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান চালালে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সহিংসতা ও নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা মোড় এলাকায় কয়েক হাজার পোশাকশ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকে পড়েন দূরপাল্লার অসংখ্য যাত্রী।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে সাড়া না পাওয়ায় তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বিজিবির এক সদস্য গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে পুলিশের যানবাহনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরাও। নাওজোর এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় সময় টেলিভিশনের একজন প্রতিবেদক ও একজন ক্যামেরাপারসনকে মারধর করা হয় এবং তাঁদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এর আগেও বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শারীরিক নির্যাতন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংস পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, শ্রমিকদের অব্যাহত বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে মূল কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শেষে নিজ নিজ বাসায় ফিরে গেছেন। তবে পরবর্তী সময়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাঁদের মধ্যে প্রকৃত শ্রমিকের বাইরেও অন্য ব্যক্তিরা থাকতে পারেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওসি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বেলা ১টার পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা ভোগান্তির পর যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

উল্লেখ্য, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। শ্রমিকদের প্রধান দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিলেও শ্রমিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত না আসায় বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।

শ্রমিক নেতারা নবগঠিত মজুরি বোর্ডকে দ্রুত শ্রমিকদের দাবি বিবেচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।