tanaka
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলরক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক হতে পারে যে ২ মসলা

রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক হতে পারে যে ২ মসলা

রান্নায় দারুচিনি ও রসুনের ব্যবহার শুধু স্বাদই বাড়ায় না, হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও হতে পারে উপকারী। তবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এগুলো ওষুধের বিকল্প নয়।

রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে দারুচিনি ও রসুনের ব্যবহার বেশ পরিচিত। তবে খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এই দুই মসলা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কিছুটা সহায়তা করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় এদের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণের কথা উঠে এসেছে। তবে গবেষণার ফলাফল একরকম নয়। তাই উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু দারুচিনি বা রসুনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

১. দারুচিনি

কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনি মোট কোলেস্টেরল ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে সব গবেষণায় একই ধরনের ফল পাওয়া যায়নি। ফলে কোলেস্টেরল কমাতে দারুচিনির কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো সীমিত।

দারুচিনিতে সিনামালডিহাইড ও পলিফেনলের মতো উপাদান রয়েছে। এসব উপাদানের সম্ভাব্য প্রদাহবিরোধী ও বিপাকীয় উপকারিতা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে দারুচিনি খেলে নিশ্চিতভাবে কোলেস্টেরল বা রক্তে শর্করার মাত্রা কমবে, এমনটি বলা যায় না।

যেভাবে খাবারে দারুচিনি যোগ করবেন

  • সকালের ওটমিল বা দইয়ের সঙ্গে অল্প দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • চা বা কফিতে সামান্য দারুচিনি ব্যবহার করতে পারেন।
  • ফলের স্মুদি বা অন্যান্য পানীয়তে দারুচিনি যোগ করা যায়।
  • ঝাল তরকারি, রান্না করা সবজি ও স্যুপেও দারুচিনি ব্যবহার করা যায়।

দারুচিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে ক্যাসিয়া জাতের দারুচিনিতে কুমারিন নামের একটি উপাদান থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে যকৃতের ক্ষতি করতে পারে। তাই দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে দারুচিনি খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো।

২. রসুন

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রসুনের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় রসুন বা রসুনের সম্পূরক গ্রহণের সঙ্গে এলডিএল কোলেস্টেরলের সামান্য হ্রাসের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

রসুন কুচি বা থেঁতো করলে অ্যালিন নামের উপাদান থেকে অ্যালিসিন তৈরি হয়। এটি রসুনের গুরুত্বপূর্ণ সালফারযুক্ত যৌগগুলোর একটি। কোলেস্টেরল বিপাক ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর রসুনের বিভিন্ন উপাদানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে রসুন খেলে ধমনিতে চর্বি জমা বন্ধ হবে বা কোলেস্টেরল নিশ্চিতভাবে কমবে, এমন প্রমাণ নেই।

যেভাবে খাবারে রসুন ব্যবহার করবেন

  • রসুন কুচি বা থেঁতো করে সবজি ও ডালে মেশাতে পারেন।
  • জলপাইয়ের তেলে শাকসবজি রান্নার সময় রসুন যোগ করা যায়।
  • মসুর ডালের স্যুপ, স্টু ও ঝাল খাবারে রসুন ব্যবহার করতে পারেন।
  • সালাদের সস তৈরিতে রসুন মেশানো যায়।
  • ভাজা রসুন পাউরুটির সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।
  • রসুনের গুঁড়া ডিম, সবজি বা মুরগির মাংসের রান্নায় ব্যবহার করা যায়।

পুষ্টিবিদ স্টুয়ার্টের পরামর্শ অনুযায়ী, রসুন কুচি বা থেঁতো করার পর রান্নার আগে প্রায় ১০ মিনিট রেখে দিলে অ্যালিসিন তৈরির সুযোগ পায়। তবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করলেই কোলেস্টেরল কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

রান্নায় রসুন ব্যবহার করে অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত সসের প্রয়োজনও কমানো যেতে পারে। এতে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস আরও স্বাস্থ্যকর করা সহজ হয়।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আর কী করবেন?

দারুচিনি ও রসুনের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

  • শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেশি খান।
  • অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার সীমিত করুন।
  • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ গ্রহণ করুন।

মনে রাখবেন: রসুন ও দারুচিনি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে, কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসা নয়। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেশি থাকলে বা কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। রসুনের সম্পূরক রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারীদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ।