tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশনতুন সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে চাওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, ভারতে পালানোর আগেই...

নতুন সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে চাওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, ভারতে পালানোর আগেই গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অঙ্কুর প্যাটেলের বিরুদ্ধে। ৩১ বছর বয়সী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গত আগস্টে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রায় তিন মাস আগে, মে মাসে ৩২ বছর বয়সী স্ত্রীর সঙ্গে প্যাটেলের বিচ্ছেদ হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ওই নারী উইসকনসিনে তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

নতুন সম্পর্কে জড়ানোয় বাড়ে বিরোধ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ ও চাপে বিচ্ছেদের পর একবার সাবেক স্বামীর কাছে ফিরে এসেছিলেন ওই নারী। তবে বেশিদিন সেখানে থাকেননি তিনি। পরে সাবেক এক সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে লুইজিয়ানায় বসবাস শুরু করেন। তাঁদের মেয়েটি অবশ্য প্যাটেলের কাছেই ছিল।

এদিকে, স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় মরিয়া হয়ে ওঠেন প্যাটেল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক স্ত্রী ও তাঁর নতুন সঙ্গীকে হত্যার হুমকি দিতেন। এমনকি মেয়ের সঙ্গে মায়ের যোগাযোগেও বাধা সৃষ্টি করতেন। এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত।

ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্যাটেল শিকাগোতে আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। ওই সময় স্ত্রীকে না জানিয়েই মেয়েকে ভারতে নিজের বাবা-মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি।

মেয়ের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে ডেকে পাঠান

অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়ের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে সাবেক স্ত্রীকে শিকাগোতে আসতে বলেন প্যাটেল। মেয়েকে ভারতে পাঠানোর বিষয়টি না জানায় ওই নারী তাঁর নতুন সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। তাঁর সঙ্গী ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, আর তিনি একাই প্যাটেলের অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন।

কিন্তু সেখানে গিয়ে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে বিস্মিত হন তিনি। এ সময় প্যাটেল আবারও একসঙ্গে সংসার করার প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান ওই নারী।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্যাটেল তাঁর সাবেক স্ত্রীর গলায় ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুলিশকে খবর

অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে অপেক্ষমাণ ওই নারীকে তাঁর সঙ্গী বারবার বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর পাননি। উদ্বিগ্ন হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অ্যাপার্টমেন্টটি শনাক্ত করতে না পেরে সেখান থেকে ফিরে যায়।

পরে ওই রাতেই প্যাটেলের কয়েকজন বন্ধু তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অ্যাপার্টমেন্টে যান। নির্ধারিত সময়ে প্যাটেল সেখানে না পৌঁছানোয় তাঁরা খোঁজ নিতে এসেছিলেন। তখন ওয়াশিং মেশিনের পাশে তাঁর স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। তবে প্যাটেলকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ওই নারীর শরীরে একাধিক প্রতিরোধমূলক ক্ষতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ক্ষত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।

ভারতে পালানোর চেষ্টা, বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার

হত্যাকাণ্ডের পর প্যাটেল শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকায় সেদিন বিমানের টিকিট কিনতে পারেননি তিনি। পরে বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে দেন প্যাটেল। এরপর একটি টার্গেট স্টোর থেকে নতুন পোশাক কেনেন। পরদিন ভারতে যাওয়ার বিমানের টিকিট সংগ্রহ করলেও বিমানে ওঠার আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে প্যাটেল দাবি করেন, স্ত্রীকে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তাঁর ছিল না। তবে স্ত্রী নতুন সঙ্গীর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর তাঁকে ‘শেষ করে দিয়েছেন’ বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ ঘটনায় প্যাটেলের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি