tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্যে একসঙ্গে পাঁচ সরকারি চাকরি করে বিচারের মুখে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি

যুক্তরাজ্যে একসঙ্গে পাঁচ সরকারি চাকরি করে বিচারের মুখে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস তাঁদের বিরুদ্ধে আনা নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের নতুন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হয়ে তাঁরা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। খবর বিবিসির।

এর আগে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদকসন্ত্রাস, মাদক পাচার ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ এনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নতুন করে নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ যুক্ত করা হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরো ও ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে নিউইয়র্কে কারাগারে রাখা হয়।

আদালতে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি মামলাটি বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন এই দম্পতি। তাঁদের আইনজীবীদের যুক্তি, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে মাদুরো বিচারিক দায়মুক্তি পাওয়ার অধিকারী। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়টিও বেআইনি। মামলাটির বিচার ২০২৭ সালের জুনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন অভিযোগে নির্যাতনের বিস্তৃত বিবরণ

গত সপ্তাহে আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে সরকারি কৌঁসুলিরা দাবি করেছেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস মিলে দমন-পীড়নের একটি সহিংস ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন এবং তা চালু রেখেছিলেন। এর ফলে হাজার হাজার ভেনেজুয়েলীয় হত্যাকাণ্ড, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আদালতে মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় বক্তব্য দেন। একজন অনুবাদকের মাধ্যমে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষ্য মিথ্যা এবং তিনি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করছেন। নথিপত্রের অভিযোগও সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন তিনি।

বিচারক আলভিন হেলারস্টেইন জানান, মাদুরোর নির্দোষ দাবি আদালতের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, ফ্লোরেসও অনুবাদকের মাধ্যমে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করেন এবং কোনো অপরাধ করেননি বলে জানান।

আদালতে তাঁদের দুজনকে হালকা বাদামি রঙের কারাবন্দিদের পোশাকে দেখা যায়। ব্রুকলিনের কারাগারে থাকার সময় তাঁদের ওজন কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে নির্যাতনের বিভিন্ন পদ্ধতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, শ্বাসরোধ, ধর্ষণ, জোর করে নগ্ন রাখা, দীর্ঘ সময় অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, অনাহারে রাখা, শাস্তিমূলক কক্ষে আটকে রাখা এবং মানসিক নির্যাতন।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর নির্যাতন চালানোর অনুমোদন দিয়েছিলেন মাদুরো। এমনকি এই ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন নাগরিকেরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মাদক পাচার ও কার্টেলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে

নির্যাতনের অভিযোগ যুক্ত হওয়ার আগেই মাদুরো, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন মাদক কার্টেলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এনেছিল মার্কিন সরকার।

মাদুরো বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছে।

জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত ফ্লোরেসের

বিচারের অপেক্ষায় কারাগারে থাকা ফ্লোরেস জামিনে মুক্তি পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। তবে তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি।

ফ্লোরেসের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। তবে এসব যুক্তি তাঁর জামিন নিশ্চিত করতে পারেনি।

মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। আদালতে তাঁদের নির্দোষ দাবি এবং আইনজীবীদের দায়মুক্তি-সংক্রান্ত যুক্তির বিষয়ে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।