tanaka
প্রচ্ছদঅন্যান্য‘তোমার কেউ ছিল না, তখন পাশে ছিলাম আমি’: ছেলে তাশরীফকে নিয়ে বাবার...

‘তোমার কেউ ছিল না, তখন পাশে ছিলাম আমি’: ছেলে তাশরীফকে নিয়ে বাবার আক্ষেপ

ছেলে হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছেন তাঁর বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ। ছেলেকে কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়ে বড় করলেও এখন তিনি তাঁর খোঁজখবর নেন না এবং অসুস্থতার সময় চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ করেন হেদায়েতুল্লাহ। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তাশরীফ মাইক্রোফোন হাতে ন্যায়বিচার ও জ্ঞান নিয়ে কথা বললেও নিজের অসুস্থ বাবার দেখভাল করেন না।

ছেলেকে কীভাবে কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়ে হাফেজ ও মাওলানা বানিয়েছেন, তা তুলে ধরে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তাশরীফ এখন তাঁর পড়াশোনার পেছনে বাবার অবদানের কথাও অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় তাশরীফের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তখন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে এবং ধারদেনা করে ছেলেকে চিকিৎসা করিয়েছিলেন তিনি।

হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তিনি ইমামতি করে সামান্য অর্থ উপার্জন করতেন, যা দিয়ে সংসারের খরচ চালানোই কঠিন ছিল। তারপরও ছেলের চিকিৎসার জন্য ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের হাসপাতালে দীর্ঘদিন ছোটাছুটি করেছেন। অনেক কষ্টের পর তাশরীফ সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানান তিনি।

নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছে অর্থ চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন হেদায়েতুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, আর্থিক সহায়তা চাইলে তাশরীফ জমি কেনার কথা বলে টাকা দিতে অপারগতা জানান। ছেলেকে লালন-পালন ও পড়াশোনা করাতে এত কষ্ট করার পরও প্রয়োজনের সময় তাঁর কাছ থেকে সহায়তা না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছে বলে জানান হেদায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তাঁকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইতে পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগে কিছু অর্থ পাওয়ার পর চিকিৎসা করালেও পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি। এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান তাশরীফের বাবা।

ছেলের কাছ থেকে অবহেলা পাওয়ার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হয়েছে, পর হইলাম আমি।’ তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে তাশরীফ তাঁর খোঁজ নেন না, দেখতে আসেন না কিংবা আর্থিক সহায়তাও করেন না। এ কারণে তাঁকে কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

তাশরীফের আর্থিক সামর্থ্য ও বন্ধুদের প্রসঙ্গ টেনে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ছেলের এখন প্রচুর টাকা এবং অনেক বন্ধু রয়েছে। কিন্তু একসময় যখন তাশরীফের কিছুই ছিল না, তখন তিনি অনেক কষ্ট করে তাঁকে বড় করেছেন। অথচ এখন ছেলের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পান না বলে অভিযোগ তাঁর।

মাদ্রাসা ভাঙচুর নিয়ে বক্তব্যের জেরেও বিতর্কে তাশরীফ

এর আগে গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা ভাঙচুরের বিষয়ে তাশরীফের বক্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়।

ওই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে তাশরীফ বলেছিলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক চুমু দেননি, তবে চুমু দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অপরাধ যতটুকু, শাস্তিও সেই অনুপাতে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে একজন শিক্ষকের অপরাধের জন্য পুরো মাদ্রাসাকে দায়ী করা বা প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালানোর বিরোধিতা করেন তিনি।

পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের আগের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তাশরীফ। টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনাকে ঘিরে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর তিনি বলেন, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে শাস্তি দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাশরীফের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুই দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা চলছিল। সেই সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে নতুন করে ভিডিও বার্তা দেন তিনি।