tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশটানা চার দিন গ্যাসের স্বল্পচাপে ভুগবে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশ

টানা চার দিন গ্যাসের স্বল্পচাপে ভুগবে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশ

কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে আপাতত গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গত হতে দেওয়া হচ্ছে। পেট্রোবাংলার ধারণা, আনুমানিক ১৫ দিনের মধ্যে আগুনের তীব্রতা কমে আসতে পারে।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজ চলার পর ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং তাতে আগুন ধরে যায়।

ঘটনার পরপরই বাপেক্সের দুই ভূতত্ত্ববিদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাঁরা কক্সবাজারে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগুনের বিস্তার রোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গত হতে দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অগ্নিনির্বাপণ এবং গ্যাসের প্রবাহ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এ ছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ নিরূপণে ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং দ্বিমাত্রিক (২ডি) সাইসমিক জরিপসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

৪ নভেম্বর থেকে চার দিন গ্যাসের সরবরাহ কমবে

এদিকে মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ কম থাকবে। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এ সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। অর্থাৎ দৈনিক সরবরাহ কমবে ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকেরা গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের কারণে গ্রাহকদের যে অসুবিধা হবে, সে জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।