tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদরাজনীতিজামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জামায়াতের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র–এ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে এবং এ সময় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। তিনি সবাইকে আল্লাহর নামে শপথ নিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমত ও তৌফিক কামনা করি, যেন আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি এবং দেশকে এগিয়ে নিতে পারি।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান–এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াত আমীর একই টেবিলে বসেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ আজ রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ ফিরে পেয়েছে। তিনি এ অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ড. আবদুল মঈন খান, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না–সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের–এর সঞ্চালনায় এবং ক্বারী বেলাল হোসাইনের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াত আমীর বলেন, তার দল একটি কার্যকর ও অর্থবহ বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চায়। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র এবং দেশের সমস্যার সমাধানের জায়গা। সরকারের সঙ্গত সিদ্ধান্তে সহযোগিতা করা হবে, তবে অসঙ্গত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য সরকারি ও বিরোধী দল—উভয়ের সমন্বয় প্রয়োজন। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে গেলে দেশ উপকৃত হবে। সংবিধানে বিদ্যমান বিতর্কিত আইনসমূহ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বানও জানান তিনি।

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি প্রয়াত ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা দিলাওয়ার হোসেন সাঈদী–কে স্মরণ করেন এবং অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া–র ভূমিকাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মামুনুল হক।