সংগঠনের মাসিক চাঁদা দিতে দেরি হলে সদস্যদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা যাবে কি? সেই টাকা সংগঠনের আয় হিসেবে রাখা কিংবা সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করার বিধান কী? এ বিষয়ে একটি ফতোয়ায় ইসলামী শরিয়তের আলোকে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
📌 ১. বিলম্বের কারণে জরিমানা আদায় করা যাবে?
ফতোয়া অনুযায়ী, মাসিক চাঁদা দিতে দেরি হলে অতিরিক্ত টাকা জরিমানা হিসেবে আদায় করে সংগঠনের আয় হিসেবে রাখা বা সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা জায়েজ নয়।
📌 ২. চাঁদা দিতে দেরি হলে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে?
যে অর্থ নির্ধারিত সময়ে জমা না পড়ায় সংগঠনের ব্যবসায় বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি, সেই অর্থের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে লভ্যাংশ না দেওয়ার নিয়ম করা যেতে পারে। তবে সময়মতো জমা দেওয়া অন্য মূলধনের বিপরীতে প্রাপ্য লভ্যাংশ থেকে তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।
📌 ৩. জরিমানার টাকা সদকা ফান্ডে জমা দেওয়া যাবে?
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, বিলম্বের জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা সদকা ফান্ডে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা জায়েজ নয়। তবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে চাঁদা দিতে দেরি করলে সদকা করার পূর্বপ্রতিশ্রুতি নিয়ে সমসাময়িক ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এ পদ্ধতিকে সর্বসম্মতভাবে বৈধ বলা যায় না।
📌 ৪. চাঁদা আদায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপায় কী?
নির্দিষ্টসংখ্যক কিস্তি বকেয়া থাকলে সদস্যপদ বাতিলের নিয়ম করা যেতে পারে। তবে সদস্যের মূলধন ও প্রাপ্য লভ্যাংশের হিসাব শরিয়তসম্মতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।
ফতোয়ার মূল বক্তব্য: বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে লাভ হিসেবে বণ্টন না করে, যে অর্থ সময়মতো জমা না পড়ায় ব্যবসায় বিনিয়োগ করা যায়নি, শুধু সেই অর্থের বিপরীতে লভ্যাংশ না দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
ফতোয়া প্রদানকারী: মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম, মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা।
📖 ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংগঠনের চাঁদার ধরন, চুক্তির শর্ত ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় যোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উত্তম।



