tanaka

নির্বাচনের আগে চাপে ফ্রান্সের মধ্যপন্থিরা, বাড়ছে বাম ও ডানপন্থিদের প্রভাব

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও তা...
প্রচ্ছদজাতীয়আট মাসে বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ, বিদায় এক এমপিরও

আট মাসে বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ, বিদায় এক এমপিরও

কেউ পদত্যাগ করেছেন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে, কারও বিদায়ের পেছনে ছিল বিতর্ক; সিদ্ধান্ত এসেছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়

সরকার গঠনের মাত্র আট মাসের মধ্যে বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। একই সময়ে পদত্যাগ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যও। এসব পদত্যাগের পেছনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা কাজ করেছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তাঁর হাতে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএনপি ও সরকারের উচ্চপর্যায়েও এ ঘটনায় অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে জানা যায়।

এরপর রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কাজ করলে, তিনি যত ঘনিষ্ঠই হোন না কেন, তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’

সাড়ে তিন মাসেই পদত্যাগ করেন দীপেন দেওয়ান

ইশরাক হোসেনের আগে পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়।

পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছিলেন দীপেন দেওয়ান। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে মন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

তবে তাঁর পদত্যাগের পেছনে শারীরিক অসুস্থতার বাইরেও বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ নিয়ে মতপার্থক্য এবং রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়গুলো সামনে আসে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও আলোচনা ছিল।

দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সে সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছিলেন, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাঁরা নিজেরাও জানেন না। পদত্যাগের বিষয়টি তাঁদের অবাক করেছে।

এদিকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার ও তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ করেন তাঁর অনুসারী ও সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি ছিল, মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

মন্ত্রিত্ব হারিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন

গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তবে একই দিন তাঁকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর আগের দিন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ পরিস্থিতিতে জহির উদ্দিন স্বপনের মন্ত্রিত্ব কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

পদত্যাগ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মিষ্টিও

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা

সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং একজন সংসদ সদস্যের বিদায়কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। পদত্যাগের কারণ হিসেবে কোথাও ব্যক্তিগত অসুস্থতা, কোথাও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামনে এসেছে। আবার কয়েকটি ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এসব ঘটনা সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জবাবদিহি, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা এবং উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে প্রতিটি পদত্যাগের কারণ ও প্রেক্ষাপট আলাদা হওয়ায় সব ঘটনাকে একই সূত্রে ব্যাখ্যা করার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রামাণ্য তথ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।