tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়চতুর্থ দিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ: সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, সহিংসতা বাড়ছেই

চতুর্থ দিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ: সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, সহিংসতা বাড়ছেই

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভারের আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করেছে।

শ্রমিক অসন্তোষের মুখে আশুলিয়া ও গাজীপুরে দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন গাজীপুরে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও শ্রমিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুরে এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আশুলিয়ায় গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থেকে মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গাজীপুরে আটক করা হয়েছে অন্তত আটজনকে। এদিকে শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

মিরপুরে সংঘর্ষ, পুলিশ সদস্যকে মারধর

রাজধানীর মিরপুরে মঙ্গলবার টানা তৃতীয় দিনের মতো পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সকাল থেকেই পল্লবীর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভের একপর্যায়ে মেট্রোস্টেশনের পশ্চিম পাশে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন। অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর, নান্না মার্কেট এলাকার বিভিন্ন গলি ও মিরপুর-১২ নম্বরের দিক থেকে দলে দলে শ্রমিক এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। একপর্যায়ে তিন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা। সড়কে বেঞ্চ ও কাঠ জড়ো করে আগুনও জ্বালান বিক্ষোভকারীরা।

পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিককে লাঠিপেটা করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন অলিগলিতে টহল দেওয়ার পাশাপাশি মাইকিং করে আন্দোলনকারীদের সড়কে অবস্থান না নেওয়ার আহ্বান জানায় পুলিশ।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি সুপারশপের সামনে মো. সাইমুন নামে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়। তিনি পল্লবী থানা থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একা পেয়ে একদল দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়।

পরে আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। এ সময় কয়েকজন হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে সড়কে ফেলে দেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, মিরপুর-১১ নম্বর এলাকা থেকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হলে তারা কালশীর দিকে সরে যান। এ সময় পল্লবী থানা থেকে আসা এক পুলিশ সদস্য দলছুট হয়ে পড়লে তার ওপর হামলা চালানো হয়। আহত পুলিশ সদস্য মো. সাইমুন বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

পিওএম দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তৌহিদুল আরিফ বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় কিছু দুষ্কৃতকারী সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে। পুলিশ কঠোরভাবে তা দমন করেছে। তার দাবি, বর্তমানে সড়কে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রকৃত পোশাক শ্রমিকের সংখ্যা নেই বললেই চলে; বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী মাঠে নেমেছে। প্রকৃত শ্রমিকদের অনেকে কাজে রয়েছেন, আবার কাজ শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।

এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল দুটি মেট্রোস্টেশন

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের কারণে নিরাপত্তা বিবেচনায় মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দেয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্টেশন দুটি আবার চালু করা হয়।

আশুলিয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, শতাধিক কারখানায় ছুটি

মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনের মতো নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর ও ইউনিক এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত অন্তত শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। শিল্পাঞ্চল পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

সকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে তারা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধের চেষ্টা করেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

সকাল ১০টার দিকে ইউনিক এলাকায় আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে নিশ্চিন্তপুর এলাকাতেও শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকার একটি গলিতে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি দাবি করেন, সাধারণ শ্রমিকদের একটি অংশ কাজে থাকতে চাইলেও বহিরাগত কিছু লোকের ইন্ধনে তাদের উসকানি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার আহত হন প্রায় ২০ জন। মঙ্গলবারও ইটের আঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাভার মডেল থানা পুলিশ নয়জনকে এবং আশুলিয়া থানা পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, সোমবার দিবাগত রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া এলাকায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নাশকতার মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধে ইতিমধ্যে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ বলেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়া থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি

গাজীপুরেও মঙ্গলবার সকাল থেকে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অন্তত আটজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

সকালে জেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন একদল শ্রমিক। এ সময় পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। অন্যদিকে কোনাবাড়ী, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বাইরে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন।

নগরের নাওজোর ও ভোগড়া বাইপাস এলাকাতেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাওজোর এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বেরিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেন তারা। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

অন্যদিকে ভোগড়া এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা টায়ার জ্বালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা বাইপাস মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভোগড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক নন—এমন আটজনকে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোগড়া, নাওজোর, কোনাবাড়ী, পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকার অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে।

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও শ্রমিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে জালকুঁড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সোয়া ৩টার দিকে মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হন শ্রমিকরা। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে লিংক রোড অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক দফা চেষ্টা করে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের একপর্যায়ে শ্রমিকরা পিছু হটেন। পরে লিংক রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।