tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশব্যবসায়ীদের স্বার্থে জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপাচ্ছে সরকার: সাইফুল হক

ব্যবসায়ীদের স্বার্থে জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপাচ্ছে সরকার: সাইফুল হক

এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের চাপ ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষের জীবন এমনিতেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে সংকট তৈরি করবে।

তিনি জানান, গত ২ নভেম্বর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ ১১ মাসে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ৭৫৪ টাকা বা প্রায় ৫৮ শতাংশ। তাঁর মতে, এভাবে বারবার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় করে তোলা হচ্ছে।

সাইফুল হক বলেন, এলপিজির দাম নির্ধারণে বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে মূল্য সমন্বয় করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণ ভোক্তারা সেই সুফল যথাযথভাবে পাচ্ছেন কি না, আর দাম বাড়লে কেন তার পুরো বোঝা ভোক্তাদের বহন করতে হবে—এসব প্রশ্নের জবাব নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের কমিশন, মুনাফা ও পরিচালন ব্যয় বাড়ানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মূল্য কাঠামোয় সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মুনাফা ও কমিশন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হতে পারে না; বরং জনগণের স্বার্থ ও ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে পণ্য ও সেবার ব্যয়ে

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। বাসাবাড়ির পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডেও এই জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ফলে দাম বাড়ার প্রভাব শুধু সিলিন্ডারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন সেবার উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়বে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা এমনিতেই কমে গেছে। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের সংসার চালানো আরও কঠিন করে তুলবে।

বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না করে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়। কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি, অতিরিক্ত মুনাফা ও ভোক্তা হয়রানির অভিযোগ তদন্ত না করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী।

মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি

বিবৃতিতে সাইফুল হক এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কমিশন ও মুনাফার নামে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো বন্ধ, এলপিজির বাজারে কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি মূল্যনীতি প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

সাইফুল হক বলেন, ব্যবসায়ীদের মুনাফা রক্ষার নামে জনগণের পকেট কাটার নীতি বন্ধ করতে হবে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণে মুনাফাখোর ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই রাষ্ট্রের প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত।