স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে এ খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতির সামান্যতম প্রমাণ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও মেডিকেল কলেজের ৩২তম ডিএনএমসি ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. এম এ মুহিত বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের স্বাস্থ্য খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এমনকি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেও টানা ১২ বছর আয়কর দেওয়া হয়নি। এ খাতেও অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ও নতুন গভর্নিং বডি দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের জমে থাকা দায় পরিশোধ করছে।
দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দুর্নীতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কোনো খাতেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির সামান্যতম আলামত পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন, তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার বা প্রধানমন্ত্রী এক মুহূর্তের জন্যও দুর্নীতিবাজ কাউকে প্রশ্রয় দেবেন না। তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে ডা. এম এ মুহিত বলেন, চব্বিশের গণআকাঙ্ক্ষা থেকে সৃষ্ট পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সরকার স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠনের কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা অর্থের প্রতিটি পয়সা জনস্বার্থে ব্যয় করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের পাশাপাশি সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কাছে বিনামূল্যে ওষুধ এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। জনগণের অর্থ যেন কোনোভাবেই অপচয় বা আত্মসাতের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।



