জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, উন্নয়ন সহযোগিতা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং সংসদীয় কার্যক্রমের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এ দ্বিপক্ষীয় সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ইউএনডিপি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দেশের অন্যতম সক্রিয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। জাতীয় সংসদকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায়ও ইউএনডিপি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের অতীত শাসনব্যবস্থা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার, গুম ও খুনের মতো ঘটনা জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদনে বিগত সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের অবস্থানের কারণে দেশের অর্থনীতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ইউএনডিপির কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জবাবে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বলেন, সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হয়েছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইউএনডিপি সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
বর্তমান সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য ওরিয়েন্টেশন কোর্স ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা দিতে ইউএনডিপি প্রস্তুত। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সংস্থাটি আগ্রহী।
বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, নারী সংসদ সদস্যদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়।
স্পিকার জানান, বর্তমান সংসদে বিরোধী দল সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে এবং বিভিন্ন বিলের ওপর আলোচনায় নিজেদের মতামত তুলে ধরছে। নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ সময় স্পিকার আরও জানান, ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৫৩তম অধিবেশনে আগামী চার বছরের জন্য সংস্থাটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী।
সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ ইউএনডিপি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



