tanaka
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলস্তন ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিতে পারে ত্বকেও, যেসব পরিবর্তন অবহেলা করবেন না

স্তন ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিতে পারে ত্বকেও, যেসব পরিবর্তন অবহেলা করবেন না

স্তন ক্যানসার মানেই স্তনে শক্ত চাকা বা পিণ্ড তৈরি হওয়া নয়। অনেক ক্ষেত্রে স্তনের ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তনও এ রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। ত্বকের রং বদলে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী র‍্যাশ কিংবা কমলালেবুর খোসার মতো ত্বক—এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যানসারের কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের পরিবর্তনই প্রথম লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। আবার চিকিৎসা চলাকালেও ত্বক, চুল ও নখে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

সাধারণত স্তনে কোনো অস্বাভাবিক পিণ্ড অনুভূত হলে অনেকেই ক্যানসারের আশঙ্কা করেন। কিন্তু সব ধরনের স্তন ক্যানসারে এমন পিণ্ড তৈরি হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্তনের ত্বকে নতুন বা স্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি স্তন ক্যানসার বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ত্বকে যেসব পরিবর্তন সতর্কবার্তা হতে পারে

ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে স্তনের ত্বক ও স্তনবৃন্তে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে একটি স্তনে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা খেয়াল করা প্রয়োজন।

লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • ত্বকের রং বদলে যাওয়া: স্তনের ত্বকে লালচে বা কালচে দাগ দেখা দেওয়া।
  • দীর্ঘস্থায়ী র‍্যাশ: ত্বকে এমন ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ তৈরি হওয়া, যা সহজে সেরে যাচ্ছে না।
  • কমলালেবুর খোসার মতো ত্বক: ত্বক ফুলে যাওয়া, পুরু হয়ে ওঠা কিংবা ছোট ছোট গর্তযুক্ত দেখানো।
  • অস্বাভাবিক উষ্ণতা ও ফোলা: স্তনের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া বা অন্য অংশের তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হওয়া।
  • স্তনবৃন্তের পরিবর্তন: নিপল হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া অথবা এর স্বাভাবিক আকৃতি বদলে যাওয়া।

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে ক্যানসার হয়েছে, তা নয়। সংক্রমণসহ বিভিন্ন সাধারণ সমস্যার কারণেও এমন পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু লক্ষণগুলো স্থায়ী হলে, বাড়তে থাকলে কিংবা চিকিৎসার পরও না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ইনফ্ল্যামেটরি ব্রেস্ট ক্যানসার কেন আলাদা?

স্তনের ত্বকে দ্রুত পরিবর্তন দেখা দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিরল ও আক্রমণাত্মক রোগ হলো ইনফ্ল্যামেটরি ব্রেস্ট ক্যানসার (আইবিসি)। এ ধরনের ক্যানসারে অনেক সময় প্রচলিত শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় না। ফলে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

ম্যামোগ্রামে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে

আইবিসির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান বা অনুভবযোগ্য পিণ্ড না থাকায় সাধারণ ম্যামোগ্রামে রোগটি সব সময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। তাই ত্বকে সন্দেহজনক পরিবর্তন থাকলে শুধু ম্যামোগ্রামের ফলের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

সংক্রমণ বা একজিমা ভেবে ভুল হওয়ার আশঙ্কা

স্তনের লালচে ভাব, ফোলা কিংবা র‍্যাশকে কখনো কখনো সাধারণ সংক্রমণ বা একজিমা বলে মনে হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরও উপসর্গ না কমলে পুনরায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্বকের নমুনা সংগ্রহ করে বায়োপসি করা হতে পারে।

ক্যানসারের চিকিৎসায় ত্বকে জ্বালা ও চুল পড়া

স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ছাড়াও চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ত্বক, চুল ও নখে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী এসব সমস্যা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়।

রেডিয়েশন থেরাপিতে ত্বকের সমস্যা

রেডিয়েশন থেরাপির কারণে চিকিৎসা দেওয়া স্থানের ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। কখনো রোদে পোড়ার মতো জ্বালা, চুলকানি কিংবা ফোসকাও দেখা দেয়। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মৃদু, সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং আরামদায়ক সুতির পোশাক পরা উপকারী হতে পারে। ত্বকে ফোসকা বা তীব্র জ্বালা হলে চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন।

কেমোথেরাপিতে চুল ঝরে পড়া

কেমোথেরাপির অন্যতম পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চুল পড়া। তবে সব ওষুধে বা সব রোগীর ক্ষেত্রে এর তীব্রতা এক নয়। কিছু ক্ষেত্রে স্ক্যাল্প কুলিং ক্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে চুল পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এর কার্যকারিতা নির্ভর করে ব্যবহৃত ওষুধ ও চিকিৎসার ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

ভ্রু ও চোখের পাপড়ির যত্ন

কেমোথেরাপির প্রভাবে মাথার চুলের পাশাপাশি ভ্রু ও চোখের পাপড়িও পাতলা হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে চুল আবার গজায়। তবে পুনরায় চুল না গজালে বা দীর্ঘদিন পাতলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মিনোক্সিডিল বা অন্য কোনো চিকিৎসা নিজে থেকে শুরু করা ঠিক নয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

স্তনের ত্বকে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে সেটি পর্যবেক্ষণ করুন। তবে র‍্যাশ দীর্ঘস্থায়ী হলে, স্তন ফুলে গেলে, ত্বক কমলালেবুর খোসার মতো দেখালে কিংবা স্তনবৃন্তের আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন এলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মনে রাখবেন, স্তনে পিণ্ড না থাকলেও স্তন ক্যানসার হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে শুধু ত্বকের সমস্যা ভেবে উপেক্ষা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।