শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে প্রচলিত সুদের পরিবর্তে কর্জ ও উজরাহ বা সেবামূল্যভিত্তিক নীতি অনুসরণ, নগদ টাকা উত্তোলনে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নির্ধারণ এবং ফি বা চার্জ পরিবর্তনের অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ইসলামি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, নগদ টাকা উত্তোলন ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কর্জে হাসানার নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ বা কোনো ধরনের সুবিধা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগে জারি করা নির্দেশনাগুলো বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।
সব কার্যক্রমে মানতে হবে শরিয়াহর নীতি
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইসলামি ক্রেডিট কার্ডের পণ্য, চুক্তি, লেনদেন, ফি, চার্জ ও পরিচালনাপদ্ধতির প্রতিটি ক্ষেত্রে শরিয়াহর নীতি অনুসরণ করতে হবে। এ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রমও শরিয়াহসম্মত হতে হবে।
প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ব্যাংকগুলোকে কর্জ ও উজরাহ বা সেবামূল্যভিত্তিক নীতি অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে ইসলামি ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় সুদভিত্তিক লেনদেন এড়িয়ে শরিয়াহসম্মত কাঠামো বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মদ, জুয়া ও তামাকের লেনদেনে ব্যবহার নিষিদ্ধ
ইসলামি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শরিয়াহ অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্য ও সেবা কেনা বা এ-সংক্রান্ত লেনদেন করা যাবে না। নির্দেশনায় মদ, জুয়া ও তামাকের মতো পণ্য ও সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, এ ধরনের কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু ব্যাংকের ফি ও চার্জের কাঠামো নয়, গ্রাহকের লেনদেনের ধরনও শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
নগদ টাকা উত্তোলনে শতাংশ হারে ফি নেওয়া যাবে না
ইসলামি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ফি আরোপের ধরন নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনা অনুযায়ী, নগদ টাকা উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নেওয়া যাবে। তবে উত্তোলিত অর্থের পরিমাণের ওপর শতাংশ হারে ফি আরোপ করা যাবে না।
এর ফলে ব্যাংকগুলোকে নগদ টাকা উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত অঙ্কের ভিত্তিতে ফি ধার্য করতে হবে। উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শতাংশের হিসাবে ফি বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
ফি বা চার্জ পরিবর্তনের ৩০ দিন আগে নোটিশ
ইসলামি ক্রেডিট কার্ডের ফি বা চার্জ পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে জানাতে হবে।
এ নির্দেশনার ফলে কার্ড ব্যবহারের খরচে পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম জানতে পারবেন গ্রাহকেরা। পাশাপাশি নতুন ফি বা চার্জ বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা করার সুযোগ পাবেন তাঁরা।
মুদারাবাভিত্তিক আমানত ব্যবহার করা যাবে না
কার্ড পরিচালনার কাজে গ্রাহকদের মুদারাবাভিত্তিক সঞ্চিত আমানতের তহবিল ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামি ব্যাংকিংয়ে মুদারাবা একটি বিনিয়োগভিত্তিক চুক্তি, যেখানে নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী মুনাফা বণ্টন করা হয়। এ বিধানের মাধ্যমে ইসলামি ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও শরিয়াহর নীতি অনুসরণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
কেনাকাটা, নগদ উত্তোলন ও বিল পরিশোধে কর্জে হাসানা
নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, নগদ টাকা উত্তোলন এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো লেনদেন কর্জে হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ বা সুবিধা নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, ঋণ দেওয়ার কারণে সুদ বা অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করা যাবে না।
সব মিলিয়ে ইসলামি ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন, ফি নির্ধারণ, তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককে তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে শরিয়াহসম্মত নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে এসব নির্দেশনা মেনে ইসলামি ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা করতে হবে।



