কবিতা, কথাসাহিত্য ও গবেষণার মেলবন্ধনে অনন্য সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাঁর নাম ঘোষণা করে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৬ বছর বয়সী অ্যান কারসন সমকালীন সাহিত্যের অন্যতম স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তাঁর সাহিত্যকর্মে কবিতা, কথাসাহিত্য ও একাডেমিক গবেষণার প্রচলিত সীমানা ভেঙে নতুন এক শিল্পভাষার সৃষ্টি হয়েছে।
নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের’ স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। সাধারণত একজন লেখকের দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের সামগ্রিক অবদান এবং সাহিত্যকর্মের অসামান্যত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এবার পুরস্কারের সঙ্গে অ্যান কারসন পাচ্ছেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কত, তা নির্ভর করবে বিনিময় হারের ওপর। আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের হিসাবে পুরস্কারটির মূল্য প্রায় ৯ লাখ পাউন্ড বা ১২ লাখ মার্কিন ডলার।
অ্যান কারসন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য অনুবাদের জন্যও বিশেষভাবে সমাদৃত। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ধ্রুপদি সাহিত্যচর্চা বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন। প্রাচীন সাহিত্যের ঐতিহ্যকে সমকালীন ভাবনা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি নির্মাণ করেছেন নিজস্ব সাহিত্যভুবন।
কবিতা, অনুবাদ, প্রবন্ধ ও গবেষণার সমন্বয়ে অ্যান কারসন সমকালীন বিশ্বসাহিত্যে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে তাঁর নিরীক্ষাধর্মী রচনাশৈলী পাঠক ও সাহিত্যসমালোচকদের কাছে তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সৃজনশীল সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ধ্রুপদি সাহিত্যকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করাই তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাহিত্যে নোবেল অর্জনের মধ্য দিয়ে অ্যান কারসনের দীর্ঘ সাহিত্যজীবন ও সৃজনশীল অবদান পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন মাত্রা।
সূত্র: বিবিসি



