আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে শাস্তির সম্ভাবনা থাকলেও মাঠে জেতা শিরোপাগুলো ক্লাবটির কাছেই থাকা উচিত বলে মনে করেন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান স্প্যানিশ এই কোচ।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিযোগ, বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় বাড়িয়ে দেখানো এবং ব্যয় কম দেখানোর মতো বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ ৯০ কোটি পাউন্ডের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইংলিশ ক্লাবটি।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সিটির বিরুদ্ধে জরিমানা, পয়েন্ট কেটে নেওয়া কিংবা অবনমনের মতো কঠোর শাস্তি আসতে পারে। এমনকি অতীতে জেতা শিরোপা কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
সিটির অর্জনের প্রশংসা এনরিকের
বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে পিএসজি। ম্যাচটির আগে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সিটির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে কথা বলেন এনরিকে।
তিনি বলেন, ‘এমন কিছু শুনলে প্রথমে অবাক হতে হয়। তবে আমাদের প্রক্রিয়াটিকে সম্মান করতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
এ সময় মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ম্যানচেস্টার সিটির অর্জনের প্রশংসা করেন পিএসজি কোচ। তাঁর মতে, ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সিটির সাফল্যকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এনরিকে বলেন, ‘আমি যদি শুধু ফুটবল আর মাঠে যা দেখি, তা নিয়ে কথা বলি, তাহলে বলব, ম্যানচেস্টার সিটি ট্রফিগুলোর যোগ্য দাবিদার। তাদের খেলার ধরন আমার খুব ভালো লাগে।’
‘মাঠে জেতা ট্রফি মাঠেই থাকা উচিত’
সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলে মনে করেন এনরিকে। তাই রায় আসার আগে এ নিয়ে বাড়তি মন্তব্য করতে চান না তিনি।
পিএসজি কোচ বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তারা সেটি নেবেন। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমার মনে হয়, মাঠে জেতা ট্রফিগুলো মাঠেই থাকা উচিত। সিটি সেগুলো জেতার যোগ্য। আশা করি, তারা এই শাস্তি এড়াতে পারবে।’
এনরিকের বক্তব্যে স্পষ্ট, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চান না। একই সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অর্জিত শিরোপা কেড়ে নেওয়ার পক্ষেও নন তিনি।
এখন সিটির বিরুদ্ধে চলমান প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই নজর ফুটবল বিশ্বের।



