tanaka

জবিতে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ‘গরু ভোজ’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ‘গরু ভোজ’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এ আয়োজন করা...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমৃত ব্যক্তির সই-আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে খনি প্রকল্পের অনুমতি? আদানির বিরুদ্ধে আদিবাসীদের...

মৃত ব্যক্তির সই-আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে খনি প্রকল্পের অনুমতি? আদানির বিরুদ্ধে আদিবাসীদের অভিযোগ

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কোরাপুট জেলায় বক্সাইট খনি প্রকল্পের জন্য আদিবাসীদের সম্মতিপত্রে জাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে আদানি গ্রুপের একটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নথিতে এমন ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপও রয়েছে, যাঁদের কেউ মারা গেছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌতম আদানির ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কলিঙ্গ অ্যালুমিনা লিমিটেড প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলারের একটি বক্সাইট খনি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রকল্পের জন্য জমি ও বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় আদিবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নথিতে দেখানো হয়েছে যে গ্রামের অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্বেচ্ছায় জমি ব্যবহারের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের দাবি, নথিতে থাকা অনেক স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ জাল। এ নিয়ে প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

প্রতিবেদনে বলদা গ্রামের এক বাসিন্দার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁর মা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। অথচ মৃত্যুর প্রায় আট মাস পর অনুষ্ঠিত একটি সভার নথিতে তাঁর মায়ের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। একইভাবে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী একজনের আঙুলের ছাপও সম্মতিপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কিছু বাসিন্দার আরও অভিযোগ, সরকারি অন্য কাজের কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই স্বাক্ষর খনি প্রকল্পের সম্মতিপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট দুটি গ্রামের প্রধানও এমন কোনো বৈধ সভা বা সম্মতি সংগ্রহের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বনভূমি হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন

আদিবাসীদের অভিযোগ, যথাযথ সম্মতি গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই খনি প্রকল্পের জন্য বনভূমি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জীবিকা ও বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভারতে বনভূমি ব্যবহার ও আদিবাসীদের অধিকারসংক্রান্ত আইন এবং গ্রামসভার সম্মতির বিধান এ ধরনের প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোন আইনের কোন বিধান এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং অনুমোদনের সময় কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, জমি ও বনভূমি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকৃত বাসিন্দাদের সম্মতি এবং তাঁদের ঐতিহ্যগত অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আদানি গ্রুপ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ জাল করার অভিযোগ এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।