tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়মুগ্ধসহ ১১ জন হত্যা মামলায় ২৬ আসামির চার্জ গঠনের আদেশ ১১ অক্টোবর

মুগ্ধসহ ১১ জন হত্যা মামলায় ২৬ আসামির চার্জ গঠনের আদেশ ১১ অক্টোবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবর এ বিষয়ে আদেশের নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ অসুস্থ থাকায় শুনানি ও আদেশের তারিখ পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে গত ২০ আগস্ট মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল ট্রাইব্যুনাল-১-এর। পরে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আদেশের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২।

মামলায় গ্রেপ্তার ৮, পলাতক ১৮

এ মামলায় বর্তমানে আটজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।

অন্যদিকে মামলার ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, উত্তরা বিভাগের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম. শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুরতাফা বিন ওমর এবং তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন।

যেসব অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন

প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগরের উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একই অভিযোগে বলা হয়েছে, উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের একটি এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ আরও পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুনরায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়াসহ চারজন নিহত হন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। এ ছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন ১১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-২-এর আদেশের মধ্য দিয়ে মামলাটিতে ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।