tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমার্কিন নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়াতে হুতিদের হামলা, ট্রাম্পের অভিযোগ

মার্কিন নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়াতে হুতিদের হামলা, ট্রাম্পের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিক চাপে ফেলতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী রাজনীতির সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর হুতিরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইরানের নির্দেশে তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

পোস্টে ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে দেশটির নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও অর্থনীতি নিয়ে কটাক্ষ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০১ শতাংশ বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি ট্রাম্প।

হুতিদের কর্মকাণ্ডকে ‘খুব খারাপ আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘মোটেও ভালো নয়’।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রত্যাশা করছে ডেমোক্র্যাটরা।

কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সৌদি আরবে হুতিদের হামলার প্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বলেন, তিনি বিষয়টি ‘কখনো ভুলবেন না’। নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী নন উল্লেখ করে অতীতে বিপুল ব্যবধানে জয়ের কথাও তুলে ধরেন। তবে নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হলেও তিনি ক্ষমতায় থাকবেন এবং হুতিদের কর্মকাণ্ড ভুলে যাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান জোরদারের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের সময়সূচি, লক্ষ্য বা পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

এদিকে, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া—এই তিনটি বিষয়ই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা