রামকৃষ্ণ মিশনে ছয় বছরের সরসী চক্রবর্তীকে দেবীরূপে পূজা, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ভিড়
ময়মনসিংহে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশনে ছয় বছর বয়সী সরসী চক্রবর্তীকে দেবীরূপে সাজিয়ে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন মন্দিরে মহাঅষ্টমীর পূজার্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণে অংশ নেন ভক্তরা।
সকালে মহাঅষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। এ সময় শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কাঁসর-ঘণ্টা ও ঢাকের তালে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো।
রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা
নগরীর রামকৃষ্ণ মিশনে সরসী চক্রবর্তীকে মালিনী রূপে সাজিয়ে অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা সম্পন্ন হয়। সরসী নগরীর দুর্গাবাড়ি রোডের ভাস্কর চক্রবর্তী ও কমলিকা চক্রবর্তীর মেয়ে। সে নগরীর অন্বেষণ কিন্ডারগার্টেনের কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার পবিত্র ও মাতৃরূপ কল্পনা করে তাঁকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ পূজায় অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত ও পূজারিরা রামকৃষ্ণ মিশনে সমবেত হন।
মহাঅষ্টমীর সকালে নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন লাল শাড়ি, গয়না, পায়ে আলতা ও ফুলের মালায় সাজানো হয়। এরপর পদ্মফুল হাতে পূজার আসনে বসিয়ে মন্ত্রপাঠ ও ষোড়শ উপাচারে দেবীজ্ঞানে তাঁর বন্দনা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি ও দেবী বন্দনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিশন প্রাঙ্গণ।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী পূজার মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা এবং সম্মান, সমৃদ্ধি ও বিদ্যা লাভের প্রার্থনা করা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে দেবীর প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।
নগরীর মন্দিরগুলোতে ভক্তদের ভিড়
এদিকে ময়মনসিংহ নগরীর দুর্গাবাড়ি মন্দির, দশভূজা মন্দির, বড় কালীবাড়ি মন্দির, ছোট কালীবাড়ি মন্দির, লোকনাথ আশ্রম ও মন্দির, বিশ্বনাথ মন্দির, আমলাপাড়া মন্দির, আঠারোবাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির এবং অলকা নদী বাংলা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মহাঅষ্টমীর পূজার্চনা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্ত ও পূজারিদের ভিড় দেখা যায়। তাঁরা দেবীর চরণে অঞ্জলি দেন এবং পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।
অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেছেন পূজারিরা।



