tanaka

নির্বাচনের আগে চাপে ফ্রান্সের মধ্যপন্থিরা, বাড়ছে বাম ও ডানপন্থিদের প্রভাব

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও তা...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিবিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, প্রতি আউন্স ৪১২০ ডলার

বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, প্রতি আউন্স ৪১২০ ডলার

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে এই পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা ৯ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৯ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়।

অ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ‘উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতির স্থায়ী চাপ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ফেডারেল রিজার্ভের আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে।’

তেলের দাম বৃদ্ধি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছায়। সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হুথিদের হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার খবর ঘিরে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এতে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে, যা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইভানজেলিস্তা বলেন, ‘অক্টোবরে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাই ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে ফেডের দিকনির্দেশনার ওপরই মূলত নজর থাকবে।’

ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

ফেড কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার বিষয়ে তাড়াহুড়োর ইঙ্গিত না থাকায় ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কিছুটা কমেছে। তবে সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের হিসাবে এই সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে। কারণ, স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়—এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।

পিসিই সূচকের দিকেও নজর

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক (পিসিই) প্রকাশ করা হবে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডের পছন্দের এই সূচকের তথ্য থেকে ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে ধারণা পেতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বা কম হলে স্বর্ণের দামে নতুন করে ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

এদিকে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা বলেছেন, দেশটিতে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার বেশ কাছাকাছি রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যে জাপানে আরও সুদের হার বাড়ানোর সুযোগ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রুপার দাম বাড়লেও কমেছে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম

মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৯৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১১০ দশমিক ০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য, ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত ইঙ্গিত এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপর।