tanaka

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ফোন করলেই মিলছে ইলিশ, গলাচিপায় ১৮ স্থানে বেচাকেনা

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও পটুয়াখালীর গলাচিপায় থেমে নেই ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা। প্রশাসনের অভিযান এড়িয়ে উপজেলার অন্তত ১৮টি স্থানে চলছে ইলিশ কেনাবেচা।...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকপাকিস্তানে নিরাপত্তা অভিযানে সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ৮

পাকিস্তানে নিরাপত্তা অভিযানে সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ৮

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাঙ্গু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার এক সেনা কর্মকর্তাসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা এবং সাতজন সশস্ত্র বিদ্রোহী বা সন্ত্রাসী বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৭ আগস্ট) হাঙ্গু এলাকায় অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকায় সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছানোর পর সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযানে সাতজন সন্ত্রাসী নিহত হন। তবে তীব্র গোলাগুলির মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।

নিহত সেনা কর্মকর্তার নাম ক্যাপ্টেন হামজা আকরাম। তার বয়স ২৭ বছর এবং তিনি নারোয়াল জেলার বাসিন্দা ছিলেন। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের সময় হামজা আকরাম সামনে থেকে তার দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সন্ত্রাসীদের অবস্থানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় গুলিবিনিময়ের মধ্যে তিনি নিহত হন।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, নিহত সন্ত্রাসীরা এর আগে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের ওপর হামলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

খাইবার পাখতুনখোয়া পাকিস্তানের অন্যতম অস্থির নিরাপত্তা অঞ্চল। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রায়ই সন্ত্রাসী হামলা, গোপন আস্তানা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হয়।

হাঙ্গুর এই অভিযানও ওই অঞ্চলের চলমান সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার অংশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সাতজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়াকে তাৎক্ষণিক সাফল্য হিসেবে দেখছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। তবে একজন তরুণ সেনা কর্মকর্তার প্রাণহানি এ ধরনের অভিযানের ঝুঁকিও স্পষ্ট করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সামরিক অভিযান চালিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সমাধান করা কঠিন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন, গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থ ও অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করার মতো বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

অভিযানে নিহত সশস্ত্র সদস্যদের পরিচয়, তাদের সংগঠন এবং অন্য কোনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসতে পারে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস শনাক্ত করা গেলে ওই অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে, ৭ আগস্ট হাঙ্গুতে পরিচালিত এই অভিযান পাকিস্তানের চলমান সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সাতজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হলেও ক্যাপ্টেন হামজা আকরামের মৃত্যু দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।