tanaka
প্রচ্ছদরাজধানীনির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে পড়ে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু

নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে পড়ে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু

রাজধানীর রমনা এলাকায় অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন একটি ভবনের বেজমেন্ট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেন (৭২) মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর প্রথমে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

নিহতের স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার দুই মেয়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভবনের বেজমেন্ট-১-এর একটি ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার আগে তিনি কয়েকবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি নিচে পড়ে যান।

পুলিশ ও অফিসার্স ক্লাব সূত্র জানায়, মেয়েকে সুইমিং করাতে নিয়ে এসেছিলেন সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব। মেয়েকে ক্লাবে রেখে তিনি অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ভুল করে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে ভবনের বেজমেন্টে চলে যান। কিন্তু সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজতে গিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান।

অফিসার্স ক্লাবের কর্মকর্তারা জানান, মোশাররফ হোসেনের মেয়ে তার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। ফুটেজে তাকে ক্লাবের বাইরে যেতে দেখা যায়নি। এরপর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ভবনের বেজমেন্টে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশের ধারণা, ভবনের বেজমেন্ট-১-এর ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে বেজমেন্ট-৩-এর মেঝেতে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, মোশাররফ হোসেনের মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

নিহতের মামাতো ভাই নাজমুল হাসান মিলন জানান, সম্প্রতি মোশাররফ হোসেনের ছোট মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। শুক্রবার অফিসার্স ক্লাবে যাওয়ার পর মেয়েকে সুইমিং করতে পাঠিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দিতে তিনি ভবনের নির্মাণাধীন অংশে যান। তার চোখে খুব কম দেখতেন। এ কারণে লিফট খুঁজে পেতে অসুবিধা হচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি সিঁড়ি দিয়ে কখনো নিচে, কখনো ওপরে ওঠানামা করছিলেন। এর মধ্যে একটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান।

মিলন বলেন, ‘এই মৃত্যুতে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। পরিবারের সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন। প্রশাসনও ফুটেজ দেখে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করছে।’

মোশাররফ হোসেন বিসিএস ৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তিনি অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং রাজধানীর বনানীতে বসবাস করতেন।