tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়ধর্ম-বর্ণ নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: এলজিআরডি মন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণ নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: এলজিআরডি মন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয় ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, কে কোন ধর্মের বা কোন বর্ণের, তা বিবেচ্য নয়; আমরা সবাই বাংলাদেশি—এটাই আমাদের গর্বের পরিচয়।

বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে এবং সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করবে—এটাই প্রত্যাশা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি আবাসন পূজা কমিটির আয়োজনে দুর্গাপূজা পরিদর্শন ও মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শারদ সংকলন ‘সৌহার্দ-১৪৩৩’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়-অবিচার দূর করতে মানুষকে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হয়। মা দুর্গার শিক্ষা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা পাওয়া যায়।

দুর্গাপূজাকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আধুনিকতার প্রবাহে এ অঞ্চলের দুর্গাপূজার ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

মন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন, সেই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনাকে ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে গর্বিত হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে শান্তির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব।

আজিমপুর সরকারি আবাসন পূজা কমিটি-২০২৬-এর সভাপতি বিশ্বজিৎ বৈশ্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য শ্রী সমর চন্দ্র পাল এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার ভূইয়া।