ঢাকা থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজারে যাতায়াত আরও সহজ করতে নতুন ট্রেনসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ সেবা চালু করা হয়েছে। নতুন এ ট্রেনে শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৫ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৩১১ টাকা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে ট্রেনটির বর্ধিত রুটের যাত্রা উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রেলমন্ত্রী জানান, কম খরচে ভ্রমণে আগ্রহী যাত্রীদের জন্য শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এসি চেয়ারে ভ্রমণ করতে গুনতে হবে ১ হাজার ৩১১ টাকা। নতুন ট্রেনটিতে মোট ৭০৬টি আসন রয়েছে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে টিকিটের ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন এবং কোচের স্বল্পতার কারণে এত দিন এ রুটে পর্যাপ্ত ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধা বাড়াতে মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে পর্যটন এক্সপ্রেস ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করত। নতুন সেবা চালুর ফলে এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন জোড়ায়।
মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা সাত জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের ভ্রমণের বিকল্প বাড়বে এবং রেলপথে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হবে।
৪৬৭ কিলোমিটারের বেশি পথে ১২টি স্টেশনে বিরতি
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৪৬৭ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে চলবে ট্রেনটি। যাত্রাপথে ১২টি স্টেশনে এর যাত্রাবিরতি থাকবে।
ঢাকা ও কক্সবাজার ছাড়াও বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে থামবে ট্রেনটি। নতুন সেবা চালুর সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনটির কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত সাড়ে ৮টায়, পৌঁছাবে সকালে
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ট্রেনটি রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাবে। পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটি সকাল ৯টায় ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছাবে। উভয় পথে যাত্রার নির্ধারিত সময় ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
রেলওয়ে সূত্রে জানানো হয়েছে, ট্রেনটির রেক বেইজ, পানি সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালন কার্যক্রম কক্সবাজারে সম্পন্ন হবে। প্রতি রোববার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।
নতুন ট্রেনসেবা চালুর ফলে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে রেলওয়ে। বিশেষ করে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের বিকল্প বাড়ার পাশাপাশি রেলপথে যাতায়াত আরও সহজ হবে।



