tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশটুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু: মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও তানভীরের খোঁজ নেই

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু: মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও তানভীরের খোঁজ নেই

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর রিসোর্টটির মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও অন্যতম স্বত্বাধিকারী তানভীরের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের বাসিন্দা নিয়াজ মোর্শেদ টুপটুপ রিসোর্টের মালিক বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, তানভীরও রিসোর্টটির অন্যতম স্বত্বাধিকারী। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইমস) অহিদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় উখিয়া থানার পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, রিসোর্ট পরিচালনায় গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মামলায় আসামি করা হবে। এ ঘটনায় রিসোর্টের কর্মকর্তা সুমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রিসোর্টের মালিকদের অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রিসোর্টটির দুই মালিকের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কক্সবাজারে কর্মরত উখিয়ার এক গণমাধ্যমকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালবেলাকে জানান, দুই মালিকের একজন সপরিবারে দুবাইয়ে রয়েছেন। অন্যজন দেশে অবস্থান করছেন। তবে এ তথ্যের স্বাধীন কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

আগুনে প্রাণ গেল ১০ পর্যটকের

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ছয়জন চিকিৎসাধীন। নিহতদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।

পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।

এ ছাড়া নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিহত অপর দুই পর্যটকের নাম জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি এবং পরিচালনায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।