tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদজাতীয়জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলায় ভাষণ শুরু করেন তিনি।

কালবেলার পাঠকদের জন্য প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ হুবহু তুলে ধরা হলো:

বিসমিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহিম। মাননীয় সভাপতি, আসসালামু আলাইকুম ও শুভ অপরাহ্ণ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। এ দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের আট দশক পূর্তিতে সকল সদস্য রাষ্ট্রকেও শুভেচ্ছা জানাই। এবারের অধিবেশন অতীত মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘ বিগত আট দশকে বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খাদ্য, টিকা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশনসহ মৌলিক সেবায় বিপদাপন্ন কোটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। যদিও সীমাবদ্ধতা আছে, তারপরও মানবজাতির জন্য জাতিসংঘের অবদান অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশের ইতিহাসও বিশ্বকে আশার বার্তা দেয়। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পরও আমাদের অধিকার বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ সমাজের নেতৃত্বে স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার নতুন সূচনা হয়েছে। সেই দায়িত্ব আমাদের কাঁধে এসেছে, আর এজন্য আমরা বেছে নিয়েছি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কারের পথ।

আমরা শাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন, নারী অধিকারসহ নানা ক্ষেত্রে ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম চালু হয়েছে, যা আগামী নির্বাচনের পরও অব্যাহত থাকবে।

মানবাধিকার সুরক্ষায় আমরা গুমবিরোধী কনভেনশন, নির্যাতনবিরোধী ঐচ্ছিক প্রোটোকলে যোগ দিয়েছি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দীর্ঘমেয়াদি মিশন শুরু হয়েছে। উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সুশাসন, অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন। দুর্নীতি ও সম্পদ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে রাজস্বব্যবস্থা, ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসীদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শ্রম অধিকার সংস্কার ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ চলছে।

তরুণদের উদ্যোক্তা ও দক্ষ করে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সবুজ প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে টেকসই সমাধান খোঁজা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণের দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আট বছরেও সমাধান হয়নি। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সমঅধিকার ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। দাতাদের সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক চাপ জরুরি।

গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের হত্যা ও গণহত্যা চলতে দেওয়া যাবে না। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে।

শেষে তিনি শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান—যেখানে সহনশীলতা, অহিংসা, সংলাপ ও সহযোগিতা হবে মূল ভিত্তি।