এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। টানা চার দিন ধরে তিনি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি আছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি তা গ্রহণও করতে পারছেন। মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, কিছুটা উন্নতি হলেও তাকে আরও কিছুদিন সিসিইউতে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। শারীরিক অবস্থা বিমান ভ্রমণের উপযোগী না হওয়ায় এখনও বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সংক্রমণের আশঙ্কায় তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন তার চিকিৎসা পরিকল্পনায় নতুন করণীয় ঠিক করছে। লন্ডন থেকে ডা. জুবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি বোর্ডের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। আজ ঢাকায় আসা চীনের এক বিশেষজ্ঞ দলও তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।
এদিকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ঘোষিত বিএনপির ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। নয়াপল্টনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে নয়, তবে উন্নতিও তেমন হয়নি। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন—এমন প্রত্যাশা দলের নেতাকর্মীসহ কোটি মানুষের।
রিজভী জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শুভেচ্ছা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে চিঠি পাঠিয়েছেন। একইভাবে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতারাও ফুল ও পত্র পাঠিয়ে তার সুস্থতা কামনা করেছেন।
দেশজুড়ে দোয়া–প্রার্থনা
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক–ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া–মাহফিল চলছে। রাজধানীর গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদ, নয়াপল্টন আনন্দ কমিউনিটি সেন্টার, অফিসার্স ক্লাব এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও তার আরোগ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।



