tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদসারাদেশকখনোই ইন্টারনেট বন্ধ করা যাবে না: টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদন

কখনোই ইন্টারনেট বন্ধ করা যাবে না: টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদন

কখনোই ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ করা যাবে না—এমন বিধান যুক্ত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে কোনো নাগরিককে নজরদারি বা হয়রানি করাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়ন, কার্যকর রেগুলেশন এবং রাষ্ট্রীয় সার্ভেইলেন্স কাঠামোয় গঠনমূলক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সংশোধিত অধ্যাদেশটি পাস হয়। পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাদেশটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

সংশোধিত অধ্যাদেশের প্রধান দিকগুলো

  • ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা কখনোই বন্ধ করা যাবে না—এমন স্পষ্ট বিধান সংযোজন
  • ২০১০ সালের বিতর্কিত সংশোধনী কাঠামো থেকে সরে এসে বিটিআরসির স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
  • মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতা ও কার্যপরিধির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা
  • জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইসেন্স ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টাডির ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের আওতায় থাকবে
  • অন্যান্য সব লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষমতা বিটিআরসির কাছে ন্যস্ত
  • ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে ‘জবাবদিহিতা কমিটি’ গঠন

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাইসেন্স আবেদন থেকে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সময়সীমা কমানো হয়েছে। আগের আইনে থাকা উচ্চ ও পুনরাবৃত্ত জরিমানা হ্রাস করা হয়েছে, যা টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করবে। এখন থেকে বিটিআরসিকে প্রতি চার মাসে গণশুনানি আয়োজন করতে হবে এবং তার ফলোআপ তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট রোধে নির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।

নাগরিক অধিকার ও তথ্য সুরক্ষা

সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে কোনো নাগরিককে নজরদারি বা অযথা হয়রানি করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘স্পিচ অফেন্স’ সংক্রান্ত নিবর্তনমূলক ধারা সংশোধন করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেবল সহিংসতার আহ্বানকেই অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ সেবায় আপিল ও সালিশ সংক্রান্ত ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

আইনানুগ ইন্টারসেপশন ও নতুন কাঠামো

আইনে আইনানুগ ইন্টারসেপশনের সংজ্ঞা ও পরিধি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কেবল বিচারিক ও জরুরি প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (CIS)’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, জরুরি প্রাণরক্ষা, বিচারিক বা তদন্তমূলক প্রয়োজনে এবং আন্তঃসীমান্ত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে আইনানুগ ইন্টারসেপশন করা যাবে। এই ক্ষমতা কেবল আইনে নির্ধারিত নির্দিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের মধ্যে প্রয়োগ করতে পারবে।

রোল-বেইজড অ্যাকসেস কন্ট্রোল ও আধা-বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া কোনো ইন্টারসেপশন পরিচালনা করা যাবে না। নতুন সিআইএস নিজে কোনো ইন্টারসেপশন পরিচালনা করবে না; এটি কেবল কারিগরি সহায়তা দেবে। এই সংশোধনের মাধ্যমে এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার) বিলুপ্ত করা হয়েছে।

জবাবদিহিতা ও সংসদীয় তদারকি

আইনানুগ ইন্টারসেপশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আধা-বিচারিক কাউন্সিল ও সংসদীয় তদারকির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বেআইনি ইন্টারসেপশনের বিরুদ্ধে কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করা যাবে।

আধা-বিচারিক কাউন্সিল গঠিত হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (সভাপতি), প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নিয়ে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতি বছর আইনানুগ ইন্টারসেপশন সংক্রান্ত একটি জাতীয় বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং কার্যক্রম, বাজেট ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করবে।

এছাড়া ইমেজ ও ভয়েস প্রোটেকশন, সিম ডেটা ও ডিভাইস ডেটা সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীন সব ব্যবস্থাপনা জাতিসংঘ, আইটিইউসহ আন্তর্জাতিক উত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

উল্লেখ্য, অধ্যাদেশটি গত ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষে বুধবারের বৈঠকে তা চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।