ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশে অবস্থিত দেশটির কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রথম ভোট দিলেন প্রবাসে কর্মরত ইসরাইলি কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বিদেশে কর্মরত কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভোট দেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিজ নিজ দেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী দিনের বেলায় ভোটকেন্দ্র খোলা রাখবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৯৯টি কূটনৈতিক মিশনে মোট ১০১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে বিদেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ কেবল কূটনৈতিক প্রতিনিধি, মিশনের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য।
নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসে প্রথম ভোটগ্রহণ শুরু হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় সেখানে ভোটকেন্দ্র খোলা হয়। এর এক ঘণ্টা পর ফিজিতে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসেও ভোট নেওয়া শুরু হয়।
ভোটগ্রহণের কার্যক্রম শেষ হবে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ইসরাইলি কনস্যুলেটগুলোতে। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় সেখানে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
টাইমস অব ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট নেওয়া শেষ হলে ব্যালটগুলো ইসরাইলে পাঠানো হবে। পরে সেগুলো গণনার জন্য দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে নিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে, বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির কিংবা তাঁর বিরোধী জোট—কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন।
২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইসরাইলের বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি একাধিক আইনি অভিযোগও মোকাবিলা করছেন নেতানিয়াহু। দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া গাজা উপত্যকায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন তিনি।
সূত্র: আনাদোলু, টাইমস অব ইসরাইল



