ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু ভুল ও বড় ধরনের ব্যর্থতা ছিল বলে স্বীকার করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুদ্ধের কারণে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকায় এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি সিবিএস নিউজের একটি অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে কথা বলেন ভ্যান্স।
অনুষ্ঠানে জোয়ি আমর নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে কুয়েতে একটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলায় নিহত ছয় মার্কিন সেনার মধ্যে তাঁর স্ত্রী নিকোল আমরও ছিলেন। ওই সামরিক স্থাপনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।
জবাবে ভ্যান্স বলেন, অনেক সময় কিছু তথ্য তাঁর কাছে যথাসময়ে পৌঁছায় না। তবে যেকোনো ব্যর্থতাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলেও জানান। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২১ মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েক শ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক ঘাঁটিতে সেনাদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া স্বল্পমূল্যের ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টিও তুলে ধরেন ভ্যান্স। সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যে সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র এখনো কেন চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারেনি—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নির্ণায়ক সাফল্য অর্জন করেছে। তবে যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল ইরানের পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করছে।
ভ্যান্স আরও বলেন, ইরান যাতে নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে না পারে, সে বিষয়ে দেশটির কাছ থেকে চূড়ান্ত ও দৃঢ় অঙ্গীকার আদায় করতে চায় ওয়াশিংটন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



