tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে কুর্দিদের প্রস্তুত করছে সিআইএ

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে কুর্দিদের প্রস্তুত করছে সিআইএ

ইরানের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য অস্থিরতা উসকে দিতে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরোধী গোষ্ঠী ও ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। ইরান-ইরাক সীমান্তে সক্রিয় ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাজার হাজার যোদ্ধা রয়েছে, যারা প্রধানত ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছে।

সীমান্তে উত্তেজনা ও হামলা

যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকটি কুর্দি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে আসন্ন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ইরানি সেনাদের পিছু হটার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুর্দি অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ইরানি কুর্দিস্তানের ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপিআই)-এর নেতা মুস্তাফা হিজরির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কথা বলেছেন বলে এক জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা দাবি করেছেন। কেডিপিআই আইআরজিসির হামলার লক্ষ্য হওয়া গোষ্ঠীগুলোর একটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে কুর্দি বিরোধী বাহিনী অংশ নিতে পারে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

রোববার ট্রাম্প ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে দুটি মার্কিন সূত্র। আলোচনায় ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এবং কুর্দিদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় উঠে আসে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios

বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার অভিযোগ

অ্যালেট প্লিটসাস, যিনি বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় পেন্টাগনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, বলেন—যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের অস্ত্র সহায়তা দিয়ে ইরানে শাসনবিরোধী বিদ্রোহ উসকে দিতে পারে। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনী দুর্বল না হলে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের পক্ষে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সফল হওয়া কঠিন।

অন্যদিকে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক Jane Gavitto, যিনি বাইডেন প্রশাসনে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দায়িত্বে ছিলেন, এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ ইরাকের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং জবাবদিহিতাহীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে।

ইসরাইলি তৎপরতার ইঙ্গিত

একটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি বাহিনী ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকায় ইরানের সামরিক ও পুলিশ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। উদ্দেশ্য হতে পারে উত্তর-পশ্চিম ইরানে কুর্দি বাহিনীর সম্ভাব্য অগ্রযাত্রার পথ তৈরি করা। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি সিআইএ।

কুর্দিদের সক্ষমতা ও বিভাজন

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর এককভাবে সফল সরকারবিরোধী বিদ্রোহ সংগঠনের মতো সামর্থ্য সীমিত। উপরন্তু, কুর্দি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য ও বিভাজন রয়েছে, যা সম্ভাব্য সমন্বিত অভিযানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “কোনো প্রক্সি বাহিনীকে নির্দেশ দিলেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করবে—বিষয়টি এতটা সহজ নয়। তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্য ও স্বার্থ রয়েছে।”

পুরনো সম্পর্ক ও অনিশ্চয়তা

কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি বৃহৎ জাতিগত গোষ্ঠী, যাদের নিজস্ব কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নেই। তারা তুরস্ক, ইরাক, ইরান ও সিরিয়াজুড়ে বিস্তৃত অঞ্চলে বসবাস করে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএসবিরোধী অভিযানে কুর্দি বাহিনীর ওপর নির্ভর করেছে।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী Jim Mattis ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কুর্দি মিত্ররা নিজেদের পরিত্যক্ত মনে করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি বর্তমান পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় বা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে কুর্দিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।