ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন কবে শুরু হবে এবং কোন ধাপে কখন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে—তার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি আগামী সোমবার জানাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওইদিন কমিশন সভায় ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘সোমবার কমিশন সভা রয়েছে। ওই সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কবে শুরু হবে এবং কোন ধাপে কবে ভোট হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’
তফসিল ঘোষণা করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা
ইউপি নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন সরাসরি তফসিল ঘোষণা করবে না। কমিশন শুধু নির্বাচনের ধাপ বা পর্বগুলো জানিয়ে দেবে। এরপর সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন।
ইউপি নির্বাচন কবে শেষ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা একদম শুরুর ব্রিফিংয়ে যেমনটা বলেছিলাম, আশা করি সেই সময়ের মধ্যেই আমাদের সব পর্ব শেষ হয়ে যাবে।’
রাজনৈতিক সংলাপ নিয়েও সোমবার আলোচনা
রাজনৈতিক সংলাপ কবে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘সব কাজ হবে। এখন ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।’ এ বিষয়ে সোমবারের কমিশন সভায় আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।
ইউরোপীয় সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা
এদিকে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে পোস্টাল ভোটসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় পর্যবেক্ষণ মিশনের দেওয়া সুপারিশের আলোকে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের জন্য সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ইউরোপীয় অংশীদাররা ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনকে আরও সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের চলমান সহযোগিতার মেয়াদ চলতি বছরের শেষে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে তারা। নির্বাচন কমিশনও এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘উনারা আর কোনোভাবে সহায়তা করতে পারেন কি না এবং উনাদের কোলাবোরেশন তো এই বছরের শেষে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তো উনারাও আমাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আমরাও সাদরে সেটা গ্রহণ করেছি। উনারা যদি এক্সটেন্ডেড কোলাবোরেশনে আমাদের সঙ্গে থাকতে চান।’
সক্ষমতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ইউরোপীয় অংশীদারদের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান এই কমিশনার। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনবল উন্নয়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়।
ভবিষ্যতে যৌথভাবে ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ধরনের জনসম্পৃক্ততা কর্মসূচিতেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইউরোপীয় অংশীদারদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে উনাদের যে আগ্রহটা ছিল, সেটার সঙ্গে আমরাও সহমত পোষণ করেছি, আমরা বরং ওয়েলকাম করেছি। দেখা যাক, আমরা সাবসিকোয়েন্টলি এগুলো নিয়ে কাজ করবো। আমরা হোপফুল যে আমাদের পার্টনার অর্গানাইজেশনগুলোর কোলাবোরেশন এক্সটেন্ডেড হবে।’
দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগামী সোমবার কমিশন সভায় ভোটের ধাপ ও সময়সীমা চূড়ান্ত হলে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী কার্যক্রম আরও স্পষ্ট হবে।



