যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট যৌথভাবে মার্কিন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে।
এদিকে, বিমানবন্দরের ওই ঘটনার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্য একটি অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার জন্য প্রটোকল ও নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের বিষয়ে আগে থেকে অবগত না থাকায় বিমানবন্দরে প্রটোকল ব্যবস্থাপনায় কিছুটা ঘাটতি ছিল। আর সেই সুযোগেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনার পর একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ড. ইউনূসের কাছে বার্তা পাঠান, যাতে তাঁকে প্রটোকল ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
পরে কনসাল জেনারেল নিজে গাড়ি চালিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সফরসঙ্গীকে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। যাত্রাপথে দুটি গাড়ির একটিতে কনস্যুলেটের ভাড়া করা বিশেষ নিরাপত্তাকর্মী ও প্রটোকল কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন।
সোমবার বিকেলে জেএফকে বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন ড. ইউনূসের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁকে হুইলচেয়ারে ঘুরিয়ে টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কয়েকজনকে তাঁর পেছনে ছুটতে এবং বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ঘটনার সময় ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।
এ ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিন্দা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব ফরেন মিশনস’ (ওএফএম), স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এবং ডিপ্লোম্যাটিক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
বাংলাদেশ মিশনকে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নাম এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দিয়ে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ মিশন।
কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক বলেন, তাঁদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তদন্তের স্বার্থে আরও কোনো তথ্য বা সহায়তা প্রয়োজন হলে তা দিতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।



