রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল-নূর মোহাম্মদ আয়াস ও তাঁর সহযোগী মার্জিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে দুই আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে শুরু হয় হট্টগোল
আয়াস ও রিমিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল। অন্যদিকে, তাঁদের জামিনের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের স্বার্থে তাঁদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আয়াস অসুস্থ এবং রিমির একটি সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাঁদের জামিন প্রার্থনা করেন।
আইনজীবী আরও বলেন, আসামিদের মূল বক্তব্য ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং দেশের শিল্পীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের পর উত্তেজনা
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এ ঘটনাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি আসামিদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার প্রবণতা নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী উচ্চ স্বরে প্রতিবাদ জানান।
এরপর দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তাঁরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়।
এজলাস ছেড়ে যান বিচারক, নাকচ হয় জামিন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটের দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করেন।
বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে বিচারক আবার এজলাসে ফিরে আসেন। সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে তিনি আয়াস ও মার্জিয়া খন্দকার রিমির জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার
গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার অভিযোগে আয়াসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করা হয়।
পরদিন আদালত আয়াসসহ দুজনের তিন দিন এবং অপর দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে বুধবার আয়াস ও রিমিকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে দুই আসামিকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছিল।
সূত্র: আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বক্তব্য।



