tanaka

দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজায় সাত দিন বন্ধ আখাউড়া স্থলবন্দর

দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সাত দিন বন্ধ থাকবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি। ২৭ অক্টোবর থেকে পুনরায় স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রচ্ছদসারাদেশসাতক্ষীরায় শামীমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা, আসামি ধরতে অভিযান

সাতক্ষীরায় শামীমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা, আসামি ধরতে অভিযান

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) নামের এক যুবককে দুই দফায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিহতের বড় ভাই জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া এলাকায় প্রথম দফায় গণপিটুনির শিকার হন শামীম। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে রাত ৯টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে আবারও মারধর করেন। পরে রাতেই তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। তাঁর পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে ফজলুল হক আমিনী নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে লাইভ করেন। এ সময় তিনি লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারের সামনে লোকজন জড়ো হন। সেখানে চিকিৎসাধীন শামীমকে বের করে এনে মারধর করা হয়।
ফজলুল হক আমিনীর দাবি, শামীম গত ছয় মাস ধরে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। প্রতিবেশী বা অন্য কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ইসলাম নিয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিহতের ছোট ভাই সাগর হোসেন জানান, তাঁরা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদরাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে।
সাগর হোসেনের ভাষ্য, পারিবারিক সমস্যার কারণে তাঁর ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কখনো স্বাভাবিক আচরণ করতেন, আবার কখনো অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেন। তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। শামীম কোনো অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দুই দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময় তাঁদের কথাবার্তা আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে পরিবারের ধারণা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ঝগড়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে কুলিয়ার গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই প্রথমে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আবারও মারধর করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাগর হোসেন আরও বলেন, “আমার ভাই যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে তাঁর বিচার হতে পারত। এভাবে পিটিয়ে তাঁকে মেরে ফেলা হলো কেন? আমরা কিছুই করতে পারিনি। সামনে এগোলে আমাদেরও মারধর করা হতো।”
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার শামীমকে দুই দফায় গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।